News

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৭ বার ওয়াকআউট জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী© সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তিনটি অধিবেশনে সাতবার ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সংসদের কার্যক্রম, সরকারি বিল, সংবিধান সংস্কার ও সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে আপত্তি এবং প্রতিবাদ জানিয়ে এসব ওয়াকআউট করা হয়।
 
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ শুরু করলে জামায়াতসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রথমবারের মতো সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
 
তখন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ নিয়ে রাষ্ট্রপতি ‘দায়িত্বহীন ও অসত্য’ বক্তব্য দিয়েছেন। স্বৈরাচারের সময় রাষ্ট্রপতি থাকা ব্যক্তির ভাষণ দেওয়ার আইনগত ও নৈতিক অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
এরপর ১ এপ্রিল প্রথম অধিবেশনের ১৫তম কার্যদিবসে দ্বিতীয়বার ওয়াকআউট করে জামায়াত। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করা এবং এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে দেওয়া মুলতবি প্রস্তাবের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।
 
ডা. শফিকুর রহমান তখন বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সরকার তা করছে না। স্পিকারের কাছ থেকেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা সংসদে থাকতে চান না।
 
৯ এপ্রিল প্রথম অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে তৃতীয়বার ওয়াকআউট করে জামায়াত। ওইদিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শক্তিশালী করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহালের সরকারি বিল পাস হয়।
 
জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করা হয়েছিল। সেটি বাতিল করে পুরোনো দুর্বল আইন ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এটিকে তিনি মানবাধিকারের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
 
দ্বিতীয় অধিবেশন বা বাজেট অধিবেশন শুরু হয় ২৮ জুন। সেদিন বিরোধী দলকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কম সময় দেওয়া, পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে বাধা দেওয়া এবং বিলের আগাম কপি না দেওয়ার প্রতিবাদে চতুর্থবার ওয়াকআউট করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
 
১৩ জুলাই দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে পঞ্চমবার ওয়াকআউট হয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাসের সময় জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ‘বাইপাস’ বা উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
 
এরপর ২৭ আগস্ট শুরু হয় তৃতীয় অধিবেশন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল এবং খণ্ডিত সংস্কার বিল পাসের উদ্যোগের প্রতিবাদে পুরো বিরোধী দলকে নিয়ে ষষ্ঠবার সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
 
সবশেষ ৩০ আগস্ট তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে সপ্তমবারের মতো ওয়াকআউট করে জামায়াত ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিতর্কিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ দ্রুত পাসের প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত দুটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে তারা বেরিয়ে যান এবং বৈঠক বর্জন করেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button