News

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের আন্দোলনের নামে অর্থনীতি ও জনজীবন অচল করা যাবে না: নুরুল হক নুর

পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর© ঢাকা ডায়েরি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এখন জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। নীতিগত বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকতে পারে, তবে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

আরও পড়ুন

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে তিন দিনের সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, “দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কিছুটা সংকট রয়েছে। এটি জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে এ সংকট তৈরি করেনি। তাই এ বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে ভুল পথে আন্দোলন-সংগ্রামে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।”

জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ থাকা জরুরি। নীতিগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয়, যার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়।”

আগামী পাঁচ বছরে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশকে আরও ভালো অবস্থানে নেওয়া সম্ভব।”

তিনি বলেন, “জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন।”

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করছে।”

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ বন্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা যাচাই করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে নুরুল হক নুর জানান, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা ব্যয়ের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা ঠিক নয়। আমিনবাজার প্রকল্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরা হয়েছে এবং সেখানে ৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া উচিত।”

পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মাজেদুর রহমান খান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button