আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন সবাইকে নিয়ে আসেন: হাসিনার উদ্দেশে গয়েশ্বর

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আপনি আসেন, আপনি কেন দেশের বাইরে থাকবেন? আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন, সব চোর নিয়ে একবারে ঢাকায় আসেন। বাংলাদেশে আসেন। জনগণ আপনাদের দেখতে চায়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন, কেউ কেউ অপেক্ষা করছে, আবার আসিব ফিরে। আমার আপা ঘন ঘন আওয়াজ দেন, তিনি আসবেন। সাহস থাকলে আসিয়া পড়েন, আসিয়া পড়েন।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের তৃণমূলের মানুষের কথা শুনতে হবে। সাধারণ মানুষ কী চান, তাদের কী অভাব এবং সেই কীভাবে অভাব দূর করা যায়, এসব জানা জরুরি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে থাকলে ভুল করার আশঙ্কা বেশি।
গয়েশ্বর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক সক্রিয় নেতা-কর্মী পদবঞ্চিত হয়েছেন। তাদের একটি অংশ জিয়া মঞ্চে এসে সংগঠিত হয়েছেন। জিয়া মঞ্চ রাজপথের নেতা-কর্মীদের জায়গা করে দিয়েছে।
ষড়যন্ত্র চলমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা আপনাদের বুঝতে বাকি নেই। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই সরকার গঠনটা অনেক সুখের নয়, অনেক দায়িত্বশীলতার ব্যাপার।
বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী ভূত পেয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আবার যারা গুপ্তচরের মধ্যে আছে, তাদেরও পেয়েছে। এই প্রশাসন পেশাদার হয়নি। পেশাদারত্বের অভাবের কারণে এই প্রশাসন দিয়ে ভালো কাজ করা খুব কঠিন।
তিনি বলেন, শুধু আগের সরকারের ব্যর্থতার কথা বলে জনগণকে বেশি দিন অপেক্ষায় রাখা যাবে না। অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসনে পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা বর্তমান সরকারের বড় দায়িত্ব।
বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ৩১ দফা কর্মসূচি এখন শুধু তারেক রহমান বা বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণ ৩১ দফার ওপর আস্থা রেখে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চান।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঢাকা–৩ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি, ঋণের বোঝা ও নানা সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সময় প্রয়োজন। জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ১৭ বছর যদি কষ্ট করে থাকি, আরও তিনটা বছর কষ্ট করি। আমার যে অর্থ প্রয়োজন হবে পাঁচ বছরে, সেই অর্থ যেন পাঁচ দিনে উপার্জন করার চেষ্টা না করি। অর্থাৎ বাঁকা পথে অর্থ রোজগারের ভাবনা মাথা থেকে পরিহার করতে হবে।
বক্তব্যে দুর্নীতি বন্ধ ও রাষ্ট্রীয় খাতে অপচয় রোধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাগিদ দেন গয়েশ্বর। তার ভাষ্য, দুর্নীতি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার পাশাপাশি রাজনীতিকেও কলঙ্কিত করেছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, শুধু হাসিনার ব্যর্থতার কথা বলে জনগণ বেশি দিন অপেক্ষা করবে না। জনগণ রুষ্ট হবে, তারা অভিমান করবে আমাদের ওপর। আর তাদের আবার উত্তেজিত করার জন্য পার্লামেন্টে যারা উলটো দিকে বসে (বিরোধী দল) ইতোমধ্যে প্রস্তুত আছে।
শনিবার ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, সে কারণে ওরা শনিবার লংমার্চ করবে। কিসের? আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, ওরা যে বেহেশতে যাওয়ার জন্য টিকিট বিক্রি করছে মানুষের সামনে, এখন বেহেশতটা কোথায়—সেই ঠিকানা খোঁজার জন্য বোধ হয় লংমার্চ করবে।’
তিনি আরও বলেন, আমি বলব, আল্লাহ তাদের ইচ্ছা যেন কবুল করেন। তারা যেন যায়।
বক্তব্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য বের করে আনা প্রয়োজন।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত, উদ্বোধক ছিলেন জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ্ ইকবাল।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. মামুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। এতে বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
source: Barta Bazar