এমপি মিতু-নুসরাতকে ‘বেশ্যা’ আখ্যা জিয়া সাইবার ফোর্স নেতার, শাসালেন হোয়াটসঅ্যাপেও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের পর হোয়াটসঅ্যাপেও শাসিয়েছেন জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় এক নেতা। তার অশ্লীল মন্তব্যের সমালোচনা করে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার আদেশও দিয়েছেন তিনি। এমপি মাহমুদা মিতু ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
অভিযুক্ত আবিদ হাসান আকাশ জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা জেলা সভাপতি। এর আগে তিনি পাবনা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক।
এমপি মাহমুদা মিতুর পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ১৪ মিনিটে আবিদ হাসান আকাশ তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘দুই জামায়াতী টুকী ওরফে জামায়াতী বে*শ্যা।’ একই সাথে ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমের ছবি যুক্ত করে তাদের মেনশনও করেছেন তিনি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আকাশের প্রোফাইলে এই অশ্লীল মন্তব্য সরানো হয়নি।

এদিকে শুক্রবার আকাশের পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখপাত্র আশরেফা খাতুন এর সমালোচনা করেন। পরে আশরেফার পোস্টটি শেয়ার করেন মাহমুদা মিতু। সেখানে মিতু লেখেন, ‘কী অবস্থা এদের!’
ওই পোস্টে আশরেফা খাতুন লিখেছিলেন, ‘এই লোকের (আকাশ) সাথে আমার ফেইসবুকে অ্যাড নাই। কিন্তু মিতু আপা আর নুসরাতকে মেনশন করায় মনে হয় ফেসবুক অ্যালগরিদম এই জঘন্য নোংরা পোস্টটা আমার সামনে নিয়ে আসছে। না, এটা ফেইক কোনো আইডি না। এই লোক পাবনা জেলা বিএনপির দুইটা অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত।’
আরও পড়ুন: আবারও স্ল্যাটশেমিংয়ের শিকার মাহমুদা মিতু, অভিযোগ বিএনপিপন্থী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
তিনি লিখেছেন, ‘অবস্থাটা এমন যে এসব জঘন্য লেখা দেখলে আগে আওয়ামী লীগের কেউ এমন ভাবতাম। এখন কনফার্ম হওয়ার জন্য তাদের ফেসবুক প্রোফাইল চেক করা লাগে। এবং মাঝেমধ্যেই আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের লোকজনের দেখা পাওয়া যায় হ্যারাসারের জায়গায়। গতকালই তথ্যমন্ত্রীর একটা স্টেটমেন্ট দেখলাম ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কী যেন করবে তাই নিয়ে। তথ্যমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনি আগে সরকার দলের কুকুর সামলান, ভিক্ষা পরে দিয়েন।’

এর জেরে মাহমুদা মিতুর হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়ে তাকে শাসান আকাশ। সেখানে শেয়ার করা পোস্টটি সরিয়ে নিতে চাপ দেন তিনি। একই সাথে আশরেফা খাতুনও যেন পোস্টটি সরিয়ে নেয় তার নির্দেশ দেন।
হোয়াটসঅ্যাপে আবিদ হাসান আকাশ মাহমুদা মিতুকে লিখেছেন, ‘আপনি পোস্ট শেয়ার করছেন ঐটা কেটে দেন। বিষয়টি শেয়ার করা ঠিক হয়নি। আমিই সে। আশরেফাকেও কাটতে বলেন। আপনিও কেটে দেন।’
এ সময় একজন এমপি অথবা কোনো নারীকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা ঠিক কিনা—এমন প্রশ্ন করা হলে আকাশ লিখেছেন, ‘এমপি হয়েছেন বটে; তবে নির্বাচিত না, সিলেকশনে।’

স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, আবিদ হাসান আকাশের পোস্টের পর সিরাজুম মুনিরা নামে এক নারী তার প্রতিবাদ করেন। আকাশকে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর জবাবে আবিদ হাসান আকাশ লিখেছেন, ‘ছাত্রদল থেকে বের করার সক্ষমতা তুমি রাখো না আপু। বড় কথা বলে লাভ কী হুদাই। ছাত্রদলের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক, এই সংগঠনের সবাই আমার ভাইবোন, ছাত্রদল আমার ঘর। ২০১২ থেকে ২০২৬ অব্দি জেলা ছাত্রদলের দুই কমিটির সাথে কাজ করেছি। তুমি আমাকে শিখাও, ছাত্রদল শেখানোর তুমি কে? আমি সত্য প্রচারে সবসময় সরব থাকব। তুমি খারাপ ভাষার কিছুই দেখনি, আমি ১ সেকেন্ডের জন্য যদি ভাবি, আমি তোমাকে চিনি না বা পরিচয় হয়নি তখন ভাষা ঠিক পাবে। আমি কতটুকু ভালো কতটুকু খারাপ সেটা আমার সিনিয়র নেতারা জানে তোমাকে না, ভাবলেও চলবে।’
এসব ঘটনার স্ক্রিনশট শেয়ার করে শনিবার মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‘৭ নং ছবিতে দেখা যাচ্ছে এরা এমপি হোস্টেলেও আসে। আমাদের নারীদের এমপি হোস্টেলে নিরাপত্তা কী?’
আরও পড়ুন: স্লাটশেমিংয়ের শিকার এনসিপি নেত্রী মিতু, প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে স্ট্যাটাস
তিনি লিখেছেন, ‘কী পরিমাণ বেয়াদব, ব্যালেন্সলেস লোক দিয়ে দল ভরেছে চিন্তা করেন। বলতে পারেন আপা উত্তর দিয়েছেন কেন? মানে শুরুটাই আমার কাছে অদ্ভুত লাগছিল, একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়ে এইটা কেটে দেন। ভাবলাম একটু মজা দেখি। আমি আমার বাসার ম্যানকেও হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলে একটা সালাম আগে দেই। জি উনি হোয়াটসঅ্যাপ চালায়।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘বোঝার চেষ্টা করছিলাম এর কি পদ আছে কিনা!!! সে গর্বিত তার পদ আছে। দেশে কেন বছরের পর বছর অযোগ্য লোকেরা শাসন করে, নেতা হয়, তার উত্তর পাওয়া যায় এসব লোকের মাধ্যমে। যে দেশে ভোটারদের, নেতাদের নিজেদের এই অবস্থা সে দেশে বিলো স্ট্যান্ডার্ড লোকজনই তো বেশি নেতা হবে বোঝাই যায়।’
‘এই ছেলের ধারণা ওর কোনো অন্যায় নেই’ উল্লেখ করে মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‘নোংরা ভাষা বলেও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নাই। একজনকে ম্যাসেজ দিয়ে তার সাথে কী টোনে কথা বলবে তার ধারণাও নাই। কল দিতে মানা করলাম আবার কল দিচ্ছে। নিজের পোস্ট এখনো বহাল রেখে আমাকে ম্যাসেজ দিচ্ছে পোস্ট কাটার।’
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত জিয়া সাইবার ফোর্স নেতা আবিদ হাসান আকাশের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
source: The Daily Campus