মাওলানা সাদকে হুঁশিয়ারি হেফাজত আমিরের

ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ২০১৮ ও ২৪ সালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাবলিগের সাথি এবং মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেন, মাওলানা সাদ একনিষ্ঠ তওবা না করলে এবং শুরায়ি নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরুব্বিদের কাছে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এতে দেশের ৬৪ জেলার ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখ, মাদ্রাসা শিক্ষক, হেফাজতে ইসলামের নেতা, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
হেফাজত আমির বলেন, এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাদপন্থিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই খুনি চক্রকে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। যারা ১৮ ও ২৪ সালে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর বিনা কারণে হামলা চালিয়েছে, তারা নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী ও খুনি। এদের অনেকেই ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর।
সাদপন্থিরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে সংঘাত তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে বিদেশি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাওলানা সাদ বিভিন্ন সময় পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা, নবী-রাসুল ও সাহাবিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং ইসলাম, নবুওয়ত ও শরয়ি মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিয়ে সারা বিশ্বে তাবলিগের শান্তিপূর্ণ দাওয়াতি মিশনকে বিতর্কিত এবং বিভক্ত করেছেন।
তার মতে, মাওলানা সাদের বক্তব্যগুলো কোরআন-সুন্নাহবিরোধী, যা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, দীনের বিভিন্ন বিষয়ে মাওলানা সাদের চিন্তাগত বিচ্যুতি ও বিচ্ছিন্নতা এবং অনেক বিষয়ে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত ও অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য সমর্থিত মাসআলা ও মাজহাবের খেলাফ করার কারণে শরিয়ত মতে তার আনুগত্য করা জায়েজ নেই।
তার দাবি, দারুল উলুম দেওবন্দের মুরুব্বিরাসহ আলেমরা দায়িত্ব নিয়ে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেছেন। তিনি আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজের বক্তব্য সংশোধন করতে রাজি হননি।
সরকারকে সতর্ক করে হেফাজত আমির বলেন, তিনি যতদিন একনিষ্ঠ তওবা করে, শুরায়ি নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরুব্বিদের কাছে আত্মসমর্পণ না করবেন, ততদিন তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালিত হবে। কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চলবে।
সাদপন্থিদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
source: Asia Post