বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী আহত, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ইশা দাশ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বাসটি ভাঙচুরের পাশাপাশি এর সিট খুলে মহাসড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
আহত ইশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে একই ইউনিয়নের দাশপাড়ার সুনীল দাশের মেয়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টিফিনের ছুটি শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হচ্ছিল ইশা। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ইশার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক তপন কান্তি চক্রবর্তী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ইশার মৃত্যু হয়েছে বলে অপপ্রচার করছেন। তবে সে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছে। সকলকে তার জন্য আশীর্বাদ বা দোয়ার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মহাসড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে ঘাতক বাসটি ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে বাসের সিট খুলে মহাসড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। আন্দোলনকারীরা ওই এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানান।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী ও সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহত ইশা দাশের জেঠা ও ঠাকুরদিঘী পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, ‘আমার ভাতিজিকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খালি না থাকায় পরে রয়েল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।’
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়াও ঘাতক বাসটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী আহত হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মিলে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। পরে আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি।’
source: The Daily Campus