প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করেন, শুক্রবারও অফিস করেন: উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মঘণ্টার উদাহরণ টেনে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করেন। এমনকি গত শুক্রবার নামাজের পরও তিনি অফিস করেছেন।”
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “তোমরা নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদামাটা জীবনযাপন দেখছো। প্রত্যেক সপ্তাহজুড়ে তিনি ৭০ ঘণ্টা কাজ করেন। গত শুক্রবার নামাজের পরেও অফিস করছেন। আমাদের এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”
নিজের বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ধরন বোঝাতে ‘Leadership by assemble’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “নিজে করো, অন্যদেরকে ফলো করতে বলো।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের প্রথম দিন জীবনের স্মরণীয় একটি দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনা নয়, মানুষ কীভাবে বিভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারে, সমস্যা সমাধানের পথ, ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কেও শেখার সুযোগ রয়েছে। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় সমাজ, রাজনীতি, জীবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আড্ডা হবে। কিন্তু মনে রাখবে, এই সময়টি জীবনের ভিত্তি তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছর শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সময়ে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ ও সমাজের সঙ্গে শিক্ষকদের নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে হবে। এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কৃষি, পরিবেশ, পানি, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজনে এমন গবেষণা, যা শুধু জার্নালে প্রকাশিত হবে না, বাস্তব জীবনে মানুষের কাজে লাগবে।”
নবীন শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ক্যাম্পাস তোমাকে প্রস্তুত করবে, কিন্তু তোমার জীবন এই ক্যাম্পাসের চেয়ে অনেক অনেক বড়। তোমরা অনেকেই গবেষক, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, উদ্যোক্তা হবে। কিন্তু আমি চাই, তোমরা যেখানেই যাও, এই দেশের জন্য কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা রাষ্ট্রের সম্পদ। তাঁদের প্রতি জাতির প্রত্যাশা হলো জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের গড়ে তোলা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগ স্মরণ রেখে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে নিজ নিজ জায়গা থেকে অবদান রাখা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
source: The Dhaka Diary