জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল ও ব্যানার-পোস্টার বহনের সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. সুমন খান মিরাজ। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখার বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় দ্বিতীয় গেট এলাকায় জবি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই যুবককে মুঠোফোনে অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, তিনি ককটেল ও ব্যানার-পোস্টার নিয়ে আসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যানার লাগানোর বিষয়ে কথা বলছিলেন।
বিষয়টি শুনতে পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিলের ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন আটকের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা। তবে তার কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।
আটকের পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষে রাখা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জবি ছাত্রদলের এক আহ্বায়ক সদস্য জানান, ‘আমরা ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন দেখলাম, একজন ছেলে ফোনে কাউকে বলছে—আশপাশে কেউ নেই, ককটেল ও পোস্টার নিয়ে আসো।’
এটা শুনে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে আটক করে তার ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিলের ভিডিও পাওয়া যায়। আমরা তারপর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে হস্তান্তর করি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা ওসি কে এম রবিউল ইসলামকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
আটক যুবক মো. সুমন খান মিরাজ কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক এবং তার স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালীর বদরপুরে। তবে তার পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
source: Barta Bazar