News

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হানিট্র্যাপের শিকার হয়ে ভারতীয় নৌসেনা সদস্য গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যসহ মোট ১৮ জনকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ভারতে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর নেটওয়ার্ক উন্মোচনের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এই বিশাল স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্তে অন্ধ্রপ্রদেশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (সিআই) উইং ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’ (Operation Firewall-2026) নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এর আওতায় ১২টি তদন্তকারী দল একযোগে অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকসহ ভারতের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত অভিযান চালিয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের কাছে কারিগরি ও সামরিক তথ্য পাচারের মূল শিকড় খুঁজে বের করা।

বিশেষ করে বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত ভারতীয় নৌবাহিনীর কৌশলগত স্থান ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তথ্য পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সিআইডি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। একাধিক রাজ্যে চালানো এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অন্তত দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় তথ্য ফাঁসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যেই বিশাখাপত্তনমে অন্নম সাই বরপ্রসাদ নামে নৌবাহিনীর এক বেসামরিক চুক্তিভিত্তিক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পাকি-ভিত্তিক এক অপারেটিভের কাছে নৌঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি ও ছবি সরবরাহ করেছিলেন। এই তথ্য পাচারের বিনিময়ে কোনো মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিমান্ডে নিয়ে বিশাখাপত্তনম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩১ বছর বয়সী ভারতীয় নৌসেনা সদস্য প্রদীপ মুখার্জিকে। ২০১৪ সালে নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া এই সেনা সদস্য সেখানে একটি পেশাগত প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়ার সময় আটক হন। গোয়েন্দাদের ধারণা, তিনি একটি ‘হানিট্র্যাপ’-এর শিকার হয়ে পাকিস্তানি অপারেটিভদের কাছে গোপন সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করে দেন। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু পুলিশের যৌথ অভিযানের পর তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে বিজয়ওয়াড়া জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে নজরদারিতে থাকা বাকি ১৬ জনের ডিজিটাল ডিভাইস, অর্থ লেনদেনের হিসাব এবং বিদেশী গোয়েন্দা এজেন্সির সঙ্গে সম্ভাব্য সব ধরনের যোগাযোগের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গক্রমে, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-র ২০০২ সালের পাকিস্তান বিষয়ক কাউন্টার টেররিজমের প্রধানের একটি পুরোনো মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে, যেখানে তিনি আইএসআই-কে নিজেদের ‘ভাই’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে গোয়েন্দা সহযোগিতার জটিল রাজনীতিকেও পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button