অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট কিনতে ৩৪২ কোটি টাকার সরকারি চুক্তি, বড় অঙ্কের অর্থ পেল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার কোম্পানি

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর ৩৪২ কোটি ৭০ লাখ টাকার দুটি সরকারি ক্রয়চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার চুক্তিটি ৬৬ হাজার ৮১৫টি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট সরবরাহের জন্য। অন্য চুক্তিটি ২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন সরবরাহের।
সংবাদ মাধ্যম দৈনিক ওয়াদার অনুসন্ধান অনুযায়ী, দুটি কোনো চুক্তিতেই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। গত ২৪ আগস্ট ট্যাবলেট সরবরাহের সরকারি চুক্তি সইয়ের এক দিন পর, ডিইডব্লিউ, স্যালেক্সট্রা লিমিটেড ও বুরাক ব্রেক লিমিটেড কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছয় পৃষ্ঠার একটি যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তি হয়। এতে তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ বণ্টনের শর্ত নির্ধারণ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে বুরাক ব্রেক লিমিটেডের মালিকানা রয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ভাতিজা সরদার রাফিন এস এ এইচ হোসেন ও ভাতিজি আনিকা রাইদা লেয়ার হাতে। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর নিবন্ধিত কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাকালে রাফিনের বয়স ছিল ১৯ বছর এবং আনিকার ২৩ বছর। ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় কোম্পানিটির নিবন্ধিত কার্যালয়। ওয়াদার অনুসন্ধানে চুক্তির আগে বুরাক ব্রেকের ট্যাবলেট বা এ ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ বা ক্রয়ের কোনো শনাক্তযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পে লাভ বা লোকসান যা-ই হোক মোট চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পাবে নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট ডিইডব্লিউ কোম্পানি। ট্যাবলেটের যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য স্যালেক্সট্রা কোম্পানি পাবে ১৭৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ পাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার সঙ্গে সংযুক্ত বুরাক ব্রেক কোম্পানি। হিসাব অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত সামাজিক কল্যানমূলক প্রকল্পে বুরাক ব্রেক কোম্পানি প্রাপ্য অর্থ পেতে যাচ্ছেন প্রায় ৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল সংবাদমাধ্যম ওয়াদাকে বলেছেন, বুরাক ব্রেক নামে কোনো কোম্পানি আছে বলে তিনি জানতেন না এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চুক্তি সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না। রাফিনকে নিজের ভাতিজা হিসেবে স্বীকার করলেও মন্ত্রী বলেন, “পরিবারের কেউ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তবে আইন মেনে ব্যবসা করার অধিকার একজন নাগরিকের রয়েছে।”
ক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রম চলার সময় মন্ত্রীর ছোট ভাই সরদার তোফাজ্জেল হোসেন ওরফে লিয়াকতের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে উপস্থিত থাকার ছবি পেয়েছে সংবাদমাধ্যম ওয়াদা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি (লিয়াকত) মন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বৈঠকেও ছিলেন। তবে লিয়াকত সরকারি ক্রয়চুক্তি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বৈঠকটি ছিল ‘মুক্তি’ পানীয় জল এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে।
এই চুক্তির বিষয়ে সমাজক্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন,“মন্ত্রণালয় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়, নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। আমরা নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছি, যেটি নৌবাহিনীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করিনি। প্রতিষ্ঠানটি কাকে দিয়ে কাজ করাবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাউকেই আমরা চিনি না।”
প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন
২০২৬ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে ৪০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সচিবদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে সশস্ত্র বাহিনী বা সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হলে আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হবে। এরপর প্রস্তাব সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে এই নির্দেশনা মানা হয়নি। চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না নিয়ে সমাজকল্যাণ সচিব ওই চিঠির প্রাপক হিসেবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে নৌবাহিনীর সদর দপ্তর ও ডিইডব্লিউকেও এর অনুলিপি দেন। ওয়াদার পর্যালোচনায়ও এ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে পাঠানোর তথ্যও মেলেনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী দাবি করেছেন, চুক্তির আগে কয়েক দফা যাচাই করা হয়েছে, সর্বনিম্ন দরেই কাজ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। তার ভাষ্য, “চুক্তি দেওয়ার আগে যাচাই ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছিল।” তবে নির্দেশনায় উল্লেখ করা আনুষ্ঠানিক পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
নিয়ম না মেনে প্রতিযোগিতা ছাড়াই ট্যাবলেট ও হুইলচেয়ার ক্রয়
সমাজসেবা অধিদপ্তর ৬ আগস্ট ট্যাবলেট ডিভাইস কেনার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির নথি জারি করে। এতে শুধু নৌবাহিনীর ডিইডব্লিউকে প্রস্তাব দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১০ আগস্ট একই বৈঠকে প্রস্তাব খোলা, মূল্যায়ন ও দর নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিটি ট্যাবলেটের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৫০ হাজার টাকা। ডিইডব্লিউ প্রথমে ৪৯ হাজার টাকা দর দিলেও আলোচনার পর তা কমিয়ে ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২৩ আগস্ট চুক্তি সই হয়।
মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ও প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, একক উৎস থেকে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের চাপের কারণে দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করা হয়েছে। তার দাবি, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং ক্রয়টি মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। তবে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক দর না থাকায় মূল্য যাচাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চুক্তির নথিপত্র ও বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিবোর্ড ও স্টাইলাসসহ প্রতিটি এক্সট্রা এক্সটি১ ট্যাবলেটের সরকারি মূল্য ৪৮ হাজার টাকা। অথচ ঢাকার একটি বিক্রেতার বিজ্ঞাপনে স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব এ৯ প্লাসের দাম ছিল ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে কিবোর্ড ও স্টাইলাসের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৩৪ হাজার টাকা। এই হিসাবে ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাবলেট কেনায় সম্ভাব্য পার্থক্য প্রায় ৯৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লেনোভো ট্যাব এম১১-এর দাম ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে তুলনামূলক মূল্য ছিল ২৬ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে ডিইডব্লিউর প্রতিনিধিরা এক্সট্রা এক্সটি১-কে বিশেষায়িত ডিভাইস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পানি, ধুলাবালি ও আর্দ্র পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী। ফলে সাধারণ ট্যাবলেটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা যথাযথ নয়। ওয়াদার পর্যালোচনা করা নথিতে এসব বৈশিষ্ট্যের স্বাধীন যাচাইয়ের পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুইলচেয়ারের ক্ষেত্রেও দামের পার্থক্য দেখা গেছে। ২০ হাজার ৮৮৬টি প্রাপ্তবয়স্কদের হুইলচেয়ারের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৮ হাজার ১৭৫ টাকা। ঢাকার এক বিক্রেতার বিজ্ঞাপনে একটি সাধারণ ভাঁজযোগ্য স্টিলের হুইলচেয়ারের দাম ছিল ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা। ওই খুচরা মূল্য ধরে হিসাব করলে মোট ব্যয়ে প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা পার্থক্য হতো। তবে খুচরা ও কারখানামূল্যের সঙ্গে সরকারি ক্রয়ের পরিবহন, শুল্ক, কর এবং অন্যান্য ব্যয়ের পার্থক্য থাকায় এগুলোকে সরাসরি সম্ভাব্য সাশ্রয়ের হিসাব হিসেবে ধরা যায় না।
এ ছাড়া শিশুদের ২ হাজার ৫০০টি হুইলচেয়ার প্রতিটি ৮ হাজার ১০০ টাকা এবং পায়ে চালিত ২ হাজারটি সেলাই মেশিন প্রতিটি ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা হয়েছে। সেলাই মেশিনের দাম খুচরা বাজারের বিজ্ঞাপিত দামের সীমার মধ্যে থাকলেও সরবরাহপত্রে সিঙ্গার ১৫সিএইচ১ মডেলের মেশিনের সেলাইয়ের গতি প্রতি মিনিটে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার বলা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই মডেলের সর্বোচ্চ গতি প্রতি মিনিটে প্রায় ১ হাজার সেলাই।
১২৫টি হুইলচেয়ারের নমুনায় ৩০টিতে গুরুতর ত্রুটি
হুইলচেয়ারের মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর চীনের তিয়ানজিনের কাছে একটি গুদামে ডিইডব্লিউর অনুরোধে পরিদর্শন করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসজিএস। প্রাপ্তবয়স্কদের হুইলচেয়ারের একটি চালান থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩০টিতে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যায়। পরীক্ষার মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সংখ্যক নমুনায় গুরুতর ত্রুটির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সংখ্যা ছিল সাতটি।
ত্রুটির মধ্যে ছিল ঢিলা বা দুলতে থাকা চাকা, ঠিকমতো কাজ না করা হাতের ব্রেক এবং আসন ও পিঠে হেলান দেওয়ার অংশে বেরিয়ে থাকা ধাতব তার। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা হুইলচেয়ারের ৬৮ শতাংশে তার বেরিয়ে ছিল। প্রয়োজনীয় কারিগরি বিবরণও পরিদর্শককে সরবরাহ করা হয়নি। ২৩ সেপ্টেম্বর ডিইডব্লিউকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসজিএসের সিদ্ধান্ত ছিল, পণ্যগুলো মান অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এই ফলাফল চীনে পরীক্ষা করা নির্দিষ্ট চালানের নমুনার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চুক্তির আওতায় কেনা সব হুইলচেয়ারে ত্রুটি ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
ফাউন্ডেশনের অর্থ ও নিরীক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেছেন,“পণ্যগুলো এখনো ফাউন্ডেশনের পরিদর্শন কমিটি পরীক্ষা করেনি। সরবরাহের পর মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি পণ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবে। প্রথম চালানটি চট্টগ্রাম থেকে এনে ঢাকার শাহীনবাগে নৌবাহিনীর একটি স্থাপনায় রাখা হয়েছে।” ৪ অক্টোবর ফাউন্ডেশন ডিইডব্লিউকে চিঠি দিয়ে চুক্তিতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে সব হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন সরবরাহের নির্দেশ দেয়।
চুক্তিতে পণ্যগুলো ফাউন্ডেশনের ১০৩টি মাঠপর্যায়ের কেন্দ্রে সরবরাহের কথা থাকলেও পরে ঢাকার মহাখালীর একটি নৌবাহিনীর স্থাপনায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। রেজাউল করিম জানান, নতুন করে আসা কোনো সরঞ্জামই এখনো উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জামানত
ট্যাবলেট সরবরাহের চুক্তিতে মোট মূল্যের ১০ শতাংশ, প্রায় ৩২ কোটি ৭ লাখ টাকা কার্যসম্পাদন জামানত দেওয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু ডিইডব্লিউর পরিবর্তে স্যালেক্সট্রা লিমিটেডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৯ আগস্ট গ্যারান্টি ইস্যু করে। ব্যাংকের নথিতে স্যালেক্সট্রাকে সরবরাহকারী বলা হলেও সরকারি চুক্তিতে সরবরাহকারী হিসেবে ডিইডব্লিউর নাম রয়েছে। স্যালেক্সট্রার চিঠিতে ১৯ আগস্টের একটি চুক্তির উল্লেখও ছিল, অথচ সরকারি চুক্তি সই হয় ২৩ আগস্ট।
হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন সরবরাহের ক্ষেত্রেও ডিইডব্লিউর পক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলামার্ক লিমিটেডকে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার কার্যসম্পাদন জামানত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বাংলামার্কের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা জানতেন না। তার ভাষ্য, ফাউন্ডেশনের চুক্তি ছিল ডিইডব্লিউর সঙ্গে।
ওয়াদার পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে বুরাক ব্রেক বা কোম্পানিটির দুই পরিচালকের নাম নেই। তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এসেছে কোম্পানি নিবন্ধন নথি ও তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তি পর্যালোচনার পর। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সরকারি চুক্তি পাওয়ার পর কাজের বড় অংশ বেসরকারি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করলে প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা প্রকাশের বিধান কীভাবে কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
সরবরাহ শুরু হলেও বিতরণ হয়নি
অক্টোবর নাগাদ হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিনের সরবরাহ শুরু হলেও ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সেগুলো উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। অন্যদিকে, ২৭ অক্টোবরের মধ্যে ট্যাবলেট সরবরাহ শেষ করার কথা থাকলেও ১ অক্টোবর ডিইডব্লিউ সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিটি ট্যাবলেটে সিম কার্ড স্থাপন, ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ইনস্টল ও গ্রামীণফোনের স্টিকার লাগাতে প্রায় ২২ মিনিট সময় লাগছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ৯ হাজার ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর পরিদর্শন শেষ হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাননি।
সব মিলিয়ে, নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের অনুপস্থিতি, বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে অর্থ বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পূর্বানুমোদনের নথি না পাওয়া এবং হুইলচেয়ারের নমুনায় গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার বিষয়গুলো সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
source: The Dhaka Diary