নবীনগরে ১০ মাস পর ১১ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা: দুর্ঘটনা না রাজনৈতিক চক্রান্ত?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের ইকইছড়া বাজারে ঘটে যাওয়া একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দীর্ঘ ১০ মাস পর বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে নাশকতার অভিযোগ বনাম বৈদ্যুতিক গোলযোগের তথ্য—এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে পুরো ঘটনা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর ২০২৬ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ মোল্লা। বিচারক এজাহারটি গ্রহণ করে নবীনগর থানার ওসিকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির ১১ জন শীর্ষ নেতাসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন মাইনু এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে আসামিদের নেতৃত্বে পেট্রোল ঢেলে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় ও চারটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
তবে বাদীর অভিযোগের বিপরীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি নিছকই একটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটজনিত দুর্ঘটনা। গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের রাতে আবু হানিফ মোল্লা নিজেই উপস্থিত থেকে একে ‘কারেন্টের আগুন’ বলে প্রচার করেছিলেন এবং সে সময় নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরদিনই থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হলেও সরেজমিন তদন্তে নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলেনি। অথচ দীর্ঘ ১০ মাস পর হঠাৎ আদালতে এই মামলা দায়েরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখার চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন অভিযুক্ত নেতারা। সাবেক মেয়র মাইনুদ্দিন আহমেদ ও হযরত আলীর দাবি, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তাদের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে।
source: Azadir Dak