News
সংবিধানে সংশোধনী এনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব ডাকসু সদস্য হেমা চাকমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ জন্য সংবিধানে সংশোধনী এনে বিশেষ আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচালনার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দশম বৈঠকে লিখিত প্রস্তাবনা জমা দেন হেমা চাকমা। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া লিখিত প্রস্তাবনায় হেমা চাকমা সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করেন।
প্রস্তাবনায় সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালনার বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন প্রণয়নের ক্ষমতাসম্পন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠন করা সম্ভব হবে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জাতীয় পরিচয় সংরক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জাতিসত্তার ভাষার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হবেন। হেমা চাকমার যুক্তি, দেশে বাঙালি ছাড়াও বিভিন্ন ভাষাভাষী ও জাতিসত্তার মানুষ বসবাস করেন। তাঁদের সবাইকে বাঙালি হিসেবে পরিচিত করার বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।
হেমা চাকমার প্রস্তাবনা © সূত্র ভূমির মালিকানা নিয়েও সংবিধানে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন ডাকসু সদস্য। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক সামষ্টিক ভূমির মালিকানার স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁর মতে, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকায় ঐতিহ্যগত ভূমির মালিকানা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন পাহাড়িরা।
সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পাহাড়ি ও অন্যান্য জাতিসত্তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রথা সংরক্ষণ ও বিকাশে রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে নতুন উপ-অনুচ্ছেদ যুক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার জন্য চারটি সংসদীয় আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন হেমা চাকমা। এর মধ্যে একটি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব আসনের সংসদ সদস্যরা কেবল পাহাড়ি ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেমা চাকমার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলেও ভবিষ্যতে সব সময় এমন সুযোগ থাকবে, তার নিশ্চয়তা নেই। হেমা চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যকরী সদস্য। তিনি তাঁর লিখিত প্রস্তাবনায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ সংশোধনের পক্ষে এসব যুক্তি তুলে ধরেন।
তবে এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি হেমা চাকমার।
source: The Dhaka Diary