News

যারা প্রবাসে লোক পাঠায় তাদের দালাল বলবেন না: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর© সংগৃহীত
যারা প্রবাসে লোক পাঠায় তাদের দালাল বলবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
 
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে নাগরিকসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। সরকারি অফিস-আদালতে সেবা নিতে গেলে সাধারণ মানুষকে অনেক সময় ঘুরতে হয়। আবার কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে কিংবা তিনি প্রভাবশালী হলে দ্রুত সেবা পেয়ে যান। বাংলাদেশের সমাজে এই সমস্যাটি রয়েছে। রাতারাতি এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।’
 
আজ শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) দেশের বেসরকারী স্যাটেলাইটভিত্তিক টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলতে শোনা যায়। 
 
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, “আপনারা ব্যবসা করবেন, প্রফিট করবেন—এটা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রফিট হতে হবে সহনীয় ও যৌক্তিক মাত্রার। যারা প্রবাসে লোক পাঠায় সবাইকে গণহারে ‘দালাল’ বলে গালি দেওয়া হয়। আমি মনে করি, এভাবে বলা উচিত নয়। তাদেরও এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা একধরনের কনসালট্যান্সি সেবা দিয়ে থাকেন। তাদের সাব-এজেন্টও বলা যেতে পারে।”
 
তিনি বলেন, “বিদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গেলে দেখবেন, সাধারণ মানুষ কিংবা শ্রমিক—যেই হোক না কেন, সবাইকে যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে সম্বোধন করা হয়। ‘স্যার, হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?’—এভাবে কথা বলা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে এখনো এ ধরনের আচরণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং আমরা বড় কর্মকর্তাদেরই শুধু ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করি।”
 
আরও পড়ুন
 
নাগরিক সেবার বৈষম্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে নাগরিকসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। সরকারি অফিস-আদালতে সেবা নিতে গেলে সাধারণ মানুষকে অনেক সময় ঘুরতে হয়। আবার কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে কিংবা তিনি প্রভাবশালী হলে দ্রুত সেবা পেয়ে যান। বাংলাদেশের সমাজে এই সমস্যাটি রয়েছে। রাতারাতি এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু করেছেন, আমরাও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।”
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হন। তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরও সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বে থাকা সবার মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে তিনি কাজ করছেন। আমরাও চাই, আমাদের অভিবাসন খাতকে সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে।”
 
ভিপি নুর বলেন, “এই খাতের প্রধান অংশীজন। গতকাল একটি অনুষ্ঠানে বলেছি, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১১ লাখ মানুষ বিদেশে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়তো ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ যান। বাকি অধিকাংশ মানুষই আপনাদের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। তাই এই খাতের উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
 
তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি, আমার কাছে অনেক মানুষ আসেন। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, তারা কষ্ট করে টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশে যেতে পারেননি কিংবা গিয়ে ফিরে এসেছেন। তাই কাউকে বিদেশে পাঠানোর আগে আপনারা ভালোভাবে খোঁজখবর নেবেন, যাতে কোনো ব্যক্তি প্রতারণা বা হয়রানির শিকার না হন।”
 
নুরুল হক নুর বলেন, “আরেকটি বিষয় হলো, ভিসা প্রসেসিংসহ বিভিন্ন কাজে আপনাদেরও খরচ হয়। আপনাদের অফিস পরিচালনা করতে হয়, জনবল রাখতে হয়। এসব ব্যয় আমরা বুঝি। আপনারা অবশ্যই ব্যবসা করবেন এবং লাভ করবেন। তবে সেই লাভ হতে হবে স্বাভাবিক ও সহনীয় মাত্রায়, কোনোভাবেই অস্বাভাবিক নয়। আজ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ব্যয় কত হওয়া উচিত, সে বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় আপনাদের কাছে মতামত চেয়েছেন। অনেকে মতামত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বসব। সবার মতামত পর্যালোচনা করে কী পরিমাণ ব্যয় নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button