Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৮, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলায় সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। বর্তমানে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে এবং এখনও পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বন্যাকবলিত সাতটি জেলা হলো—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং আটটি পৌরসভা বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।

সরকারি তথ্যমতে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে মোট ৩২ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। আহত ৪০ জনের মধ্যে ২৫ জন কক্সবাজারের এবং বাকিরা অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।

বন্যাদুর্গতদের জরুরি সহায়তায় দুর্গত সাতটি জেলায় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৮৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও রাঙামাটির আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষ অবস্থান করলেও খাগড়াছড়ির আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন ফাঁকা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। সেখানে দুর্গতদের সহায়তায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা, ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে টিন ও গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গতদের জন্য ইতোমধ্যে ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ ছাড়া পাহাড়ধস ও ঢলে বান্দরবানের ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এবং রাঙামাটির ৪৩টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাগড়াছড়ির ৪১টি ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের একাধিক ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দুর্গত এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button