এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন দেখলাম, অপদার্থতার নজির: রাবির সাবেক উপাচার্য

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. সালেহ হাসান নকীব। সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ তুলে প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নির্বাচন করার আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, “এসএসসি এবং এইচএসসি এই দেশের সবচেয়ে বড় দুটো পাবলিক পরীক্ষা। এই দুই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কারা প্রণয়ন করবেন? অবশ্যই শিক্ষক হিসেবে যারা সেরা, তারা। প্রশ্নপত্র কারা মডারেট করবেন? অবশ্যই যারা বিষয়জ্ঞানে সেরা, তারা। পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন দেখলাম। অপদার্থতার ভালো নজির।”
তিনি আরও লিখেন,”বিজ্ঞান শিখতে এবং শেখাতে হলে কতগুলো জিনিস মাথায় রাখতে হয়। এক, ছবি এবং ছবিতে দেওয়া গাণিতিক তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। দুই, শুধু ম্যাথম্যাটিকাল কন্সিসটেন্সি থাকাটা যথেষ্ট নয়। ঠিকঠাক অংক করে যদি একটা অদ্ভুত ফলাফল আসে, তাহলে অংকটার সেট আপ ঠিক হয় নি। একটা উদাহরণ দিই, ধরা যাক, অংকের ফলাফল হচ্ছে একজন মানুষের ভর। ঠিকঠাক অংক করে ফল পাওয়া গেল ১০০০০ কিলোগ্রাম। এটা কোন প্রশ্নই হয় নি। তিন, অংক করতে যা না জানলেই নয়, তা সরবরাহ করেতে হবে। না করা হলে, প্রশ্নের বৈধতা থাকে না। চার, যদি এডুকেটেড গেস করার প্রশ্ন থাকে, তাহলে সেটা রিজনেবল হওয়ার সুযোগে থাকতে হবে। অনুর ব্যাস যেখানে অ্যাংস্ট্রম অর্ডারে, সেখানে অংক মেলাতে গিয়ে যদি সেটা সেন্টিমিটারে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সেটা কোন অংকই হয় নি।উপরের প্রতিটি সমস্যা এই বছরের পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে আছে।”
প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব লেখেন, “আমার এডুকেটেড গেস হচ্ছে, প্রশ্নকারী এবং মডারেটর বাছাই করা হয়েছে কে কাকে চেনে সেই ভিত্তিতে অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায়। যোগ্যতার ধার ধারা হয়নি।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি মেরিটোক্রেসিকে মূল্য না দেই শীঘ্রই, তাহলে শুধু পরীক্ষাই নয়, জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন সার্কাস দেখতে হবে।”
উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রশ্নপত্রে বৈজ্ঞানিক অসামঞ্জস্য, তথ্যগত ত্রুটি এবং কিছু প্রশ্নের যৌক্তিকতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
source: The Dhaka Diary

