Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

মাসখানেক পরিকল্পনার পর হত্যা করা হয় জবির জোবায়েদকে, পুলিশি তদন্তে প্রেমিকাসহ তিনজনের নাম

জোবায়েদ হোসাইন হোসাইন এবং অভিযুক্ত তিন আসামি© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তে হত্যাকাণ্ডটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি ও সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ফরেনসিক, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আলামতের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন ঢাকা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আসামি করা হয়েছে জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার বর্তমান প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহির ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল হামলাকারী, বর্ষা পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।
 
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা ভবনে বর্ষাকে পড়াতে যান জোবায়েদ। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভবনের নিচতলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ভবনের তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 
তদন্তে উঠে এসেছে, এটি আকস্মিক কোনো হামলা ছিল না। বরং হত্যার আগে এক মাস ধরে পরিকল্পনা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জোবায়েদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করা হয়। 
 
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির উভয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জোবায়েদের কাছে থাকা বর্ষার অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
অভিযোগপত্রে মোট ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিএনএ রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
 
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
 
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, “অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল (বুধবার) এটি জিআরওতে আসবে। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক নম্বর আসামিসহ কেউই ছাড় পাবে না।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button