এনসিপির কার্যালয়ে জামায়াতের আমির, ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর বাংলামোটরে রুপায়ন ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে এনসিপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান।
এ সময় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জামায়াত আমিরের হাতে ফুলের তোড়া, দলের প্রতীক শাপলা কলির রেপ্লিকা, পাঞ্জাবি ও বোরখার কাপড় উপহার হিসেবে তুলে দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, এনসিপির কার্যালয়ে তাঁর এ সফর নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির বার্তা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা। তিনি বলেন, ‘বার্তাটা হচ্ছে যে, আমরা হাতে হাত মিলিয়ে সবাই আছি।’
এনসিপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অনেক দিন ধরেই তিনি এনসিপির কার্যালয় দেখতে চাচ্ছিলেন। সে কারণেই তিনি এসেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘সংসদের ভেতরে এবং বাইরে বিগত নির্বাচনে একসঙ্গেই আমরা লড়াই করেছি। সহযোদ্ধাদের পরস্পরের পাশে থাকা, সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া, একসঙ্গে চলা—এটি হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাঁদের ‘যথেষ্ট রিজার্ভেশন’ থাকলেও দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদের ভিতরে আমরা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু পাওনা, সংসদের ভেতরে আপনারা সচেতন সাংবাদিক সমাজ লক্ষ্য করছেন, আমরা বহুলাংশে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের জন্য যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার ধারে কাছেও বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া হয়নি।
অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন বৈষম্য নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের মৌলিক দাবিগুলো আদায়ে আন্দোলন করছে।
১১ দলীয় জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাওয়ার পর এনসিপিও জোট ছাড়তে পারে—এমন আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, এনসিপির এমন কোনো এজেন্ডা নেই, জামায়াতেরও নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা তো সে অর্থে ফরমাল (জোট) না। আমরা একটা নির্বাচনে ঐক্য করেছি। আর এখন জনগণের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করছি।’
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করেছেন। জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাবনাময় নেতাদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এতে যুক্ত করা হবে।
এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আছি সংসদে এবং সংসদের বাইরে।’
দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট, সারের দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের ভোগান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে তাঁরা কথা বলবেন বলেও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘১১ দল না, আমাদের এই আন্দোলন জনগণের পক্ষের আন্দোলন, এটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।’
একই সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি নানা কারণে নির্বাচনে তাঁদের সঙ্গে আসতে পারেনি, তাদেরও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমিরের সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের এখনো যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, সেই জায়গায় উনার নেতৃত্ব, উনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশে অতি প্রয়োজন।’
এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে জনগণের পক্ষে তাঁদের কণ্ঠ শোনা যাবে এবং সংসদের বাইরেও রাজপথে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করবেন।
এ সময় এনসিপির কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দলটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
source: Barta Bazar