পীরগাছায় ভেজাল সারের কারখানার সন্ধান, মালামাল জব্দ

রংপুরের পীরগাছায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল সার, বালাইনাশক তৈরির কাঁচামাল, প্রস্তুতকরণ সরঞ্জাম এবং নামিদামি বিভিন্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ নকল মোড়কসহ ৭২ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সৈয়দপুর বাজারের পশ্চিমে তৈয়ব আলীর ছেলে আব্দুল মালেকের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ বছর বয়সী আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ভেজাল সার ও বালাইনাশক তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৭২ বস্তা ভেজাল সার ও বালাইনাশক তৈরির কাঁচামালসহ সোডিয়াম সালফেট, সরঞ্জাম এবং সিনজেনটাসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নকল মোড়ক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামালসমূহ পারুল ইউনিয়ন পরিষদে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত আব্দুল মালেক পালিয়ে যাায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মালেক বিগত ১৮-২০ বছর ধরে এই অবৈধ ভেজাল সার ও বালাইনাশকের কারবারের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন। প্রতিবেশী কৃষক মজনু মিয়া ও রুবেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অসাধু এই কারবারি বারবার পার পেয়ে যান। যারা এসব নকল সার ও ওষুধ কিনে বাজারজাত করার মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০-১২টি নামিদামি কোম্পানির বিপুল পরিমাণ নকল মোড়ক উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, তারাও পৃথক মামলা করবে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, ‘অভিযুক্ত আব্দুল মালেক প্রায় দুই দশক ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম সালফেটসহ বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে এবং আগামী রবিবারের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।’
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, মাহাবুবার রহমান মন্ডল, আসাদুল ইসলাম, শামসুজ্জামান এবং পীরগাছা থানা পুলিশের একটি দল। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং প্রান্তিক কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে মানসম্পন্ন সার পৌঁছে দিতে কঠোর বাজার মনিটরিং ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে নকল ও ভেজাল সার এবং বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ক্ষেত্রবিশেষে মাটির অনুজীব ধ্বংস হয়ে দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা শক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের ভেজাল পণ্য ব্যবহারে কৃষকরা কেবল আর্থিক ক্ষতির শিকারই হন না, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও চরম হুমকির মুখে পড়ে। অসাধু সিন্ডিকেট রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এমএইচ
source: Daily Amar Desh