দুর্গাপূজায় দুরভিসন্ধি করলে সরকার সহ্য করবে না: ইশরাক

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ দুরভিসন্ধি নিয়ে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড করলে সরকার তা কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
রোববার বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের হলরুমে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
ইশরাক হোসেন বলেন, গত বছর তাঁতীবাজারে একটি ঘটনা ঘটেছিল। তিনি সেখানে পরিদর্শন করে আসার পর রাত ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে তারা জানতে পারেন, ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাত ৩টার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেও কোনো নিরাপত্তাকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবী ছিল না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এবার তো অলমোস্ট একটা ঘোষণা দিয়েই বলা হচ্ছে যে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে। তো সেই ক্ষেত্রে আমাদের ভেতর থেকেই তো কেউ না কেউ এই সহযোগিতাটা করবে, যেটা কিছুটা ইঙ্গিত নিপুণ রায় চৌধুরী দিয়েছেন। সেই ধরনের কোনো কিছু কোনোভাবেই আমাদের সরকার অবশ্যই টলারেট করবে না।’
ইশরাক হোসেন বলেন, বিষয়টি দেশের সব পর্যায়ের নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরাপদভাবে এটা সম্পন্ন হোক, এটাই আমরা চাই।’
তবে কেউ অন্য কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে কোনো কিছু করলে তার পরিণতি ভালো হবে না—এমন বার্তাও থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনে এবার সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ হচ্ছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, কোতোয়ালি থানায় ২০টি, বংশাল থানায় ৩টি, সূত্রাপুর থানায় ২৫টি, ওয়ারী থানায় ১৯টি এবং আরেকটি থানায় ১৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
পূজামণ্ডপের সংখ্যা ও বরাদ্দের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। ইশরাক হোসেন বলেন, মহানগর দক্ষিণ পূজা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে এবং পূজামণ্ডপের তালিকা তারাই নির্ধারণ করে। কোনো রাজনৈতিক দল এই তালিকা করে না। ফলে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।
তিনি বলেন, ‘পূজামণ্ডপে আমরা গরমিল করব এবং সেখান থেকে চাল বরাদ্দ নেবে—এই ধরনের একটা ইঙ্গিত আসলে আমরা কোনোভাবেই কাম্য করি না। এটা একেবারে অনুচিত।’
পূজার আগে রাস্তাঘাট সংস্কারের বিষয়টিও তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট সংস্কারের বিষয়টি সিটি করপোরেশনের। পূজার আগেই সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে পূজার আগে সিটি করপোরেশনের স্ট্রিট লাইটগুলো লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি কথা বলেন।
স্বেচ্ছাসেবীদের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, স্বেচ্ছাসেবকের বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা না থাকলেও তার দল দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করে আসছে। পূজামণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পাহারার ভূমিকায় থাকতে চাইলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচয়পত্রের বিষয়েও সভায় পুলিশের কর্মকর্তার কাছে জানতে চান ইশরাক হোসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচয়পত্র দেওয়া হলে ভালো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূজা কমিটির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকা ও আইডি দিয়ে তাদের যাচাই করা যেতে পারে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১-এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
source: Daily Amar Desh