ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানো যায়, মানুষের কণ্ঠ নয়

ভারতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি নাগরিককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির তরুণ ও জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের চলমান গণ-আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
এক ভিডিও বার্তায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ব্যারিকেড দিয়ে রাজপথ বন্ধ করা যায়, কিন্তু মানুষের কণ্ঠকে কখনো রোধ করা যায় না।
ভিডিও বার্তায় সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। কেবল পশ্চিমবঙ্গেই বাদ পড়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ শতাংশই মুসলিম। মোদি সরকারের এই অমানবিক ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে ভারতের সর্বস্তরের ছাত্র, তরুণ ও সাধারণ জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
তিনি বলেন, তরুণদের এই আন্দোলনে দিশাহারা হয়ে মোদি সরকার গণগ্রেপ্তার, রাজপথে ব্যারিকেড, মেট্রোরেল বন্ধ এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মতো কঠোর দমনমূলক পথ বেছে নিয়েছে। ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর অভিমুখী সড়কগুলো বন্ধ করে খোলা মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে অস্থায়ী কারাগার বানিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে রাখা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের উদাহরণ টেনে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে বা গণগ্রেপ্তার চালিয়ে মানুষের ন্যায্য আন্দোলন দমিয়ে রাখা যায় না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কারফিউ জারি, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে আমাদের আন্দোলন থামাতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তরুণদের ঐক্য ও সাহসের কাছে পরাস্ত হয়েছে।’
ভারতের মুক্তিকামী তরুণদের ভয় না পেয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরশাসক ভয় দেখিয়ে টিকে থাকতে চায়, কিন্তু জনগণ একবার ভয় জয় করে ফেললে কোনো বন্দুক বা কারাগারই তাদের রক্ষা করতে পারে না।’
বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ এবং জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ভারতের মুক্তিকামী তরুণদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
source: Daily Amar Desh