News

‘আমি জানি না, আপনার রান্নায় সয়াবিন তেল ব্যবহার হয় কি না’—খাবারে ক্ষতিকর উপাদানের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সাবেক সচিব

প্রধানমন্ত্রী ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন দেশের খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সয়াবিন তেলে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
 
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, “বাংলাদেশের এক বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক আমাদের সয়াবিন তেলের হেভিমেটাল বা কন্টামিনেশনের উপর করা গবেষণা পত্র গতকাল আন্তর্জাতিক জার্নালে পাবলিশ হয়েছে।”
 
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি লেখেন, “লেড বা সীসা পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে ১৯ গুন বেশি। নিকেল পাওয়া গেছে ২৩ গুন বেশি। কপার পাওয়া গেছে ৮ গুন বেশি। আর্সেনিক প্রায় ৩ গুন বেশি। ক্রোমিয়াম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পাওয়া গেছে।”
 
এর আগে ২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “এর আগে ২০২৪ সালে সয়াবিন ও পাম ওয়েল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়, সয়াবিন তেলে বিএসটিআইয়ের মান অনুযায়ী পারদ বা মার্কারি পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১৭৭ গুন বেশি এবং গড় ২১ গুন বেশি। পাম ওয়েলে পারদ বা মার্কারি পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৯২ এবং গড় ১৩ গুন বেশি।”
 
খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে কোনো খাদ্য আইটেমে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে মাত্র ১ গুন বেশি হলেও তা ভয়াবহ। কারণ রিস্ক ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে হবে এক্ষেত্রে।”
 
প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতির আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি লেখেন, “আমরা ভোর থেকে রাতে শোবার আগে পর্যন্ত যা খাই, প্রতিটি খাদ্য আইটেমে হেভিমেটাল আছে। সাথে আছে কীটনাশক রেসিডিউ, রেডিও এক্টিভ এলিমেন্টস, আফলাটক্সিন, কাপড়ের রঙ, নানান প্রকার কেমিক্যাল এবং কোনো ক্ষেত্রে পিফাস।”
 
খাদ্যদূষণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, “ঘুমাবার সময় আমরা এবং আমাদের বাচ্চারা পাহাড় পরিমাণ বিষ নিয়ে ঘুমাতে যাই। ঘরে ঘরে ক্যান্সার আর কিডনি রোগী। বাচ্চাদের গণহারে কেমো দিতে হচ্ছে। বহুবিধ দুরারোধ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত পুরো জাতি।”
 
সরকারপ্রধানের আশপাশের ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি লেখেন, “আপনার চারপাশে যারা আছেন, তারা কখনোই আপনার নজরে এসব আনবে না, বলবে না, মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করবে এবং সবকিছু লুকাবে।”
 
প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি পরামর্শ দিতে না পারার আক্ষেপ জানিয়ে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, “আপনি যে রাষ্ট্রের সরকার প্রধান, সেটা কোনো সভ্য রাষ্ট্র হতে পারে না। এটা বসবাসযোগ্য ভূমি নয়। আপনাকে অনেক কথা সামনাসামনি বলতে চেয়েছিলাম। কিভাবে সম্ভব, কারা কারা দায়ী, কী কী করতে হবে, সব পরামর্শ দিতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য সে সৌভাগ্য আমার হয়নি।”
 
পোস্টের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, “আপনি সর্ব প্রকার ভেজাল খাদ্য থেকে দূরে থাকুন, সেই প্রার্থনা করে শেষ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএসটিআই, ফুড সেইফটি অথোরিটি এবং ভোক্তাকে এক সাথে করে আমার সামনে একটু বসাতে পারবেন প্লিজ। লাইভ ক্যামেরা থাকবে।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button