সাংবাদিকদেরকে ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলে ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্য বক্তা আব্বাসীর, বিভিন্ন মহলে আপত্তি

ইসলামী বক্তা ও আব্বাসী মঞ্জিল জৈনপুরী দরবার শরীফের পীর মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সম্প্রতি বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরকে ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার এ বক্তব্যে সারাদেশে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে, তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় দাবি করেছেন, ‘হলুদ সাংবাদিকদের’ ব্যাপারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
এমতাবস্থায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর মতো একজন গুণী ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট পেশার মানুষদের নিয়ে এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা শোভনীয় বা আইন কিংবা শরিয়তসম্মত কিনা? তাছাড়াও, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, তা না করে পুরো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বানকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবেও বিবেচনা করছেন অনেকে।
গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের বক্তব্য জাতির মধ্যে যেমন বিভাজনের পথকে সুগম করে, ঠিক তেমনি মানুষকে ঘৃণার চর্চা ও সহিংসতার দিকে নিয়ে যায়। তাছাড়াও, কারো কোনো অপরাধ থাকলে বা কেউ কারো প্রতি সংক্ষুব্ধ থাকলে, উত্তেজনা না ছড়িয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক স্কলারদের মতে, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী কোমল ও নম্র ভাষার প্রয়োগ না ঘটিয়ে অপরের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোকে ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। এ কার্যকলাপের কারণে ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য প্রচারের পরিবর্তে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সাংবাদিকরা কী বলছেন?
ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির ঢাকা ডায়েরিক বলেন, “যেকোনো সেন্সিবল ব্যক্তি আরেকজন মানুষকে নিয়ে এ ধরনের উসকানিমূলক, আক্রমণাত্মক কিংবা সহিংস আহ্বান একটি সভ্য সমাজে করতে পারেন না। তাদের মতো ইসলামিক স্কলাররা যেমন খেলাফতি সমাজব্যবস্থা চান, সেই ব্যবস্থাতেও এমন আহ্বান গ্রহণযোগ্য নয়। আব্বাসীর তো লাখ লাখ ভক্ত রয়েছেন, তার মতো একজন ব্যক্তির মুখ থেকে এমন বক্তব্য শুধুই আপত্তিজনক নয়, বরং গুরুতর অপরাধও। কারণ, সাধারণ কেউ এমন কথা বললে সেটির বাস্তবায়ন কঠিন। কিন্তু উনার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি এমন সহিংসতার আহ্বান জানালে, বাস্তবে সেটি যেকোনো পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।”
কদরুদ্দিন শিশির আরও বলেন, “সাংবাদিকদের ব্যাপারে তিনি ঢালাওভাবে যে কথা বলেছেন, এটি যদি একজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেও বলতেন, তারপরও এটা সঠিক অ্যাপ্রোচ নয়। কেউ অপরাধ করলেই এমন ভায়োলেন্ট আহ্বান ভাল কিছুর নিদর্শন নয়। নিজ বক্তব্যের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করতে হবে, নতুবা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি।”
অভিমত জানতে চাইলে টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, “এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর মতো ব্যক্তি এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য করার এখতেয়ার রাখেন না। যারা এমন উসকানি ও হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়ে নাগরিকদেরকে ভাগ করতে চান, তারা মূলত বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে চান। বাংলাদেশের সামনে এগোবার পথ তারা রুদ্ধ করতে চান। এ ধরনের আচরণ মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি চর্চার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।”
কাউকে পেটানোর আহ্বান জানানোর ব্যাপারে আইন কী বলে?
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, “ঢালাওভাবে এ ধরনের মন্তব্য করা উচিৎ নয়, তিনি যেই হোন না কেন। আর এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী যেহেতু একজন সম্মানিত আলেম, সমাজের তার মতো ব্যক্তিদের প্রভাব রয়েছে। তার পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসার কাম্য নয়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ীও উনি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলেও, এটি যৌক্তিকতা পাবে না। প্রমাণহীনভাবে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণের আহ্বানকে আসলে ধর্মীয় রীতি-নীতিসহ কোনো আইন সমর্থর করে না।”
এ আইনজীবী আরও বলেন, “যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া, বিচার চাওয়া বিষয়টি বিবেচ্য হতে পারে। কিন্তু এভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা ছড়ানোকে আইন কখনোই বৈধতা দেয় না।”
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
কাউকে পেটানোর আহ্বান জানিয়ে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর দেওয়া বক্তব্যের যৌক্তিকতা এবং সহিংসতা বা ঘৃণা বিস্তারে এটি সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়ে জানতে কথা হয় সমাজ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে। তিনি ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, “এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে মূলত তার জনপ্রিয়তার অপব্যবহার করছেন। সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করার আগে তিনি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারেও উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়েছেন, যেটি অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এরপরেই তিনি সাংবাদিকদেরকে নিয়ে মন্তব্য করলেন। আমি যতদূর জানি, যেন-তেমনভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো দায়িত্ব-জ্ঞানহীন এমন বক্তব্যকে ইসলাম ধর্মও এক্সেপ্ট করে না।”
তিনি আব্বাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি একজন সুবক্তা এবং ধর্মীয় প্রজ্ঞা ধারণ করেন, সেজন্য ধর্মপ্রাণ মানুষ আপনাকে ভালোবাসে। এ কারণে, আপনার উচিৎ ছিল স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মাথায় রাখা। তা না করে গুটিকয়েক ব্যক্তির উদাহরণ দেখিয়ে পুরো একটি পেশার প্রতি ঘৃণা ও জিঘাংসা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আপনার ভক্তকুল এবং সাংবাদিকদের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।”
এই অধ্যাপক আরও বলেন, “সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ্য করে এভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্যে তার একটি পপুলিস্ট অ্যাপ্রোচ পরিলক্ষিত হয়েছে। কোনো ব্যক্তিরই উচিৎ নয় যে, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এমন বক্তব্য দেওয়া, যেটির কারণে সমাজের শান্তি বিনষ্ট হয়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, “এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্যটি অগ্রহণযোগ্য এবং অপেশাদার একটি বক্তব্য, যা তিনি করতে পারেন না। তার এ বক্তব্য সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতা পেশার জন্য অসম্মানজনক। এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে তার দুঃখ প্রকাশ করা উচিৎ বলে মনে করি।”
ঢাবির এ প্রবীণ অধ্যাপক আরও বলেন, “রাষ্ট্রের অন্য অরগানগুলো ঠিকমতো ফাংশন করছে কিনা, সেটা দেখভালের কাজ গণমাধ্যম করে থাকে। যার কারণেই, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। গণমাধ্যমকর্মীরা যেখানে এই দায়িত্ব পালনের কাজ করছেন, সেখানে তাদেরকে নিয়ে এমন বক্তব্য এক ধরনের উসকানি ও বিদ্বেষ প্রকাশের নামান্তর। এ ধরনের বক্তব্য প্রদান থেকে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর মতো ব্যক্তিদের বিরত থাকা উচিৎ। এটা মনে রাখতে হবে যে, সাংবাদিকতা পেশা একটি জনবান্ধব ও সেবামূলক পেশা।”
ইসলাম কী বলে?
তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার (ঢাকা) অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর সাবেক সদস্য ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, “কোনো খারাপ নামে কাউকে আক্রমণ করা বা হুমকি-ধমকি দেওয়া সম্পূর্ণভাবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কোমল ও নম্র-ভদ্র ভাষা ও এর প্রয়োগকে আল্লাহ তায়ালা নিজেই পছন্দ করেন, এ ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এজন্য শুধু ইসলামিক স্কলার নয়, বরং কোনো মুসলিমের জন্যই কাউকে হেয় করে আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ সমীচীন নয়। কোনো ব্যক্তির সঙ্গেই এটা করা যাবে না। আর সাংবাদিকরা হলেন প্রত্যেক দেশের বুদ্ধিজীবী মহল। তাদের ক্ষেত্রে তো আরও প্রশ্ন উঠে না।”
তিনি বলেন, “রাসূল সা. এর জীবদ্দশায় আবু সুফিয়ান ইসলামের অনেক ক্ষতি করেছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর তাকে শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ থাকলেও রাসূল সা. তাকে সম্মানিত করেছেন এবং নিরাপত্তা দিয়েছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণত কাউকে আঘাত করে সম্মানহানি করা এবং আক্রমণাত্মক কোনো কথা বলার বৈধতা নেই।”
বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের এই সেক্রেটারি জেনারেল আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন, “ইসলামিক স্কলার হিসেবে কাজ করছেন, এরকম কিছু ভাই রয়েছেন, যারা তাদের কথার ব্যালেন্স রক্ষা করতে পারে না। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। ওই সমস্ত ভাইয়েরাই গোটা মুসলিম উম্মাহর এবং ইসলামের সৌন্দর্যকে সবার সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। তেমনি সাংবাদিকদেরকে পেটাতে চাওয়ার ঘটনা নিয়েও কিন্তু দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে এবং নিউজ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও নিউজ হতে পারে যে, একজন ইসলামিক স্কলার এভাবে সাংবাদিকদেরকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তখন তো ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অথচ ইসলাম তো এমন কার্যকলাপ ও বক্তব্যকে সমর্থনই করে না।”
সবশেষে ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, “কেউ যদি অপরাধ করেও থাকে, তাহলে তার ব্যাপারে প্রথম কাজ হলো তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া। তারপর শাস্তির বিষয়টি নির্ধারিত হবে। কিন্তু, তা না করে আক্রমণাত্মক বহিঃপ্রকাশ ঘটালে তা যেমন ক্ষতির কারণ হবে, একই সাথে ইসলামের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হবে। কারণ, আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে ইসলামী সমাজব্যবস্থাও সমর্থন করে না।”
সেদিন কী বলেছিলেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী?
এর আগে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, “আমার খুব দুঃখ লাগছে ইশরাকের (সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী) বিষয়টাতে। সে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্যই এটা ঠিক- পিস্তল উঁচিয়ে করাটা তার পদ্ধতি খারাপ ছিল; উদ্দেশ্য মহৎ ছিল। কিন্তু গভর্নমেন্ট (সরকার) ঝুঁকিটা নিতে চায় নাই। কারণ, সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোকে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “একজন যুবক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে, সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই। প্রচার করেছে- পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে। এরা বিদেশি ইন্টেলিজেন্ট ব্রাঞ্চ কর্তৃক দেওয়া পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক, এটা তারা চায় না। এসব হলুদ সাংবাদিকতা যারা করে, তাদেরকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।”
‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কী বলছেন আব্বাসী?
সাংবাদিক পেটাতে চাওয়া বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে, পরের দিন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার উত্তরখান থানার চাঁনপাড়া বাজারের মরহুম ইসলাম উদ্দিন খান সুপার মার্কেটে আল মাদ্রাসা রাহিমিয়া তালিমুল কুরআনে আয়োজিত এক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে আগের মন্তব্যের আব্বাসী ব্যাখ্যায় বলেন, “আহারে, সাংবাদিকরা সব খেপে গেছে আমার বিরুদ্ধে। আপনারা টের পেয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায়, দেখছেন; খুব খেপেছে সব সাংবাদিক। একুশে টিভি, আরটিভি, ইত্তেফাক, কালবেলা, সবগুলোতেই আমার একটা বিষয়ে নিউজ করছে তারা। তারা বলছে, আমি সাংবাদিকদের গালি দিলাম কেন? ঘটনাটা আপনারা জানেন। একজন প্রতিমন্ত্রী (ইশরাক হোসেন) মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন। অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা তার। আপনারা জানেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গিয়ে ইশরাক হাতে পিস্তল নিয়েছিল। পিস্তলটা তো তার বৈধ।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে সে অভিযানে বেরিয়েছে, তাদের কাছেও তো অস্ত্র থাকতে পারতো। হ্যাঁ, তার পদ্ধতিটা ভুল হয়ে গেছে। পিস্তল উঁচিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিটা ভুল ছিল। কিন্তু তার উদ্দেশ্য মহৎ- রাজধানীকে মাদক মুক্ত করা। এখন শুধু পুলিশের পক্ষে কি এটা সম্ভব? মাদক মুক্ত করা জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে না? মাদকের বিরুদ্ধে তার এই অভিযানটাকে ভিন্নরূপে প্রবাহিত করেছে সাংবাদিকরা।”
ইসলামী এ বক্তা ইশরাকের ঘটনায় সাংবাদিকদেরকে দায়ী করে বলেন, “তার পক্ষে নিউজ হইতে পারতো যে, মাদকের বিরুদ্ধে তার সাহসী অভিযান। সেটা বাদ দিয়া তারা নিউজ করছে কি? পিস্তল উঁচিয়ে সে আইনকে হাতে তুলে নিয়েছে। সাংবাদিকরা যদি তার পক্ষে ইতিবাচক প্রচার করতো, তাহলে হয়তোবা তার পদ ছাড়তে হতো না তাকে। কিন্তু নেতিবাচক প্রচারের কারণে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে সে তার পদ হারালো। এটা কি দুঃখজনক না? এজন্য আমি মনে করি, সাংবাদিকরাই মূলত দায়ী।”
সাংবাদিকদেরকে নিয়ে মন্তব্য করার কারণ উল্লেখ করে এই বক্তা বলেন, “সেজন্য আমি সাংবাদিকদেরকে নিয়ে একটু কথা বলেছিলাম গতকাল মতলব মাহফিলে। সেটাকে আরটিভি, কালবেলা, একুশে টিভি, ইত্তেফাক, সব চ্যানেলে প্রচার করেছে আমি সাংবাদিকদেরকে গালিগালাজ করেছি। সব সাংবাদিককে আমি গালিগালাজ করি নাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যারা হলুদ সাংবাদিকতা করে। তাদেরকে আমি গালি দিয়েছি। সাংবাদিকদের মধ্যে যারা পয়সা খেয়ে হিরোকে জিরো বানায়, জিরোকে হিরো বানায় তাদের বিরোধিতা করেছি।”
সবশেষে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, “সাংবাদিকতা একটি উত্তম পেশা। একটি দেশের পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি ধরে রাখার জন্য ভালো সাংবাদিকতার প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ সাংবাদিকই ধান্দাবাজ। টাকা পেলে তাদের নিউজ পরিবর্তন হয়ে যায়। ভালো মানুষের চরিত্রহন করে। আর টাকা পেলে চরিত্রহীন মানুষের পক্ষে নিউজ করে। এ ধরনের সাংবাদিককে আমি যদি গালি দিয়ে থাকি, ভুল করছি নাকি?”
source: The Dhaka Diary