News

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় এই সংঘাত শুরু হয়। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির দেওয়া পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরপূর্বক ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর আগে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেন। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন অবরোধ স্থগিত রাখা হলেও প্রশাসন কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি। সাজেকে জেএসএসের (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা প্রকাশ্যে তৎপরতা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে এবং জুমচাষিদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে দাবি করে—তিন দফা দাবি মানা না পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাজেক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজারে পৌঁছালে অবরোধকারীরা সড়কে গাছ ও বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সকাল ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যারিকেড অপসারণ করে পর্যটকদের বহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানোর চেষ্টা চালান। এ সময় আন্দোলনকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই সাজেকে আটকে থাকা প্রায় ৩ হাজার পর্যটকের বহরকে বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ে উজোবাজার থেকে নিরাপদে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কাছাকাছি পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাজেকে থেমে থেমে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেলেও আটকে পড়া পর্যটকদের সম্পূর্ণ নিরাপদে গন্তব্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উজোবাজার ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা টহল জোরদার করেছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে স্থানীয় পক্ষগুলো। কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের এই কর্মসূচি বাধ্য হয়েই পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ইউপিডিএফের সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাজেকে ইউপিডিএফের নিজস্ব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জনগণের ওপর শোষণ থেকে নজর সরাতেই পরিকল্পিতভাবে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button