বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন, জানাল জাপান

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকারের সম্মতি দেওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টোকিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব কিতামুরা তোশিহিরো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পোস্টে কিতামুরা তোশিহিরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে বাৎসরিক এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে প্রচার হওয়া খবরটির কোনো ভিত্তি নেই। গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে এরকম কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। সঠিক তথ্যের জন্য তিনি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৈঠকের অফিসিয়াল বিবরণী দেখার পরামর্শ দেন।
এর আগে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাতে খবর প্রকাশ করা হয় যে, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা ও চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা আর জাপান সরকারের নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নিতে সায় দেওয়ার মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে, জাপানের এই মন্তব্যে তা পরিষ্কার হয়ে গেছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২৭ অক্টোবরের শীর্ষ বৈঠকের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মূলত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাাইচি জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের মাধ্যমে অন্তত এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এর সুবাদে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবেই প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (Specified Skilled Workers) এবং কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে জাপানে যাওয়ার সীমিত সুযোগ রয়েছে। তবে জাপানি ভাষার কঠিন শর্ত ও কঠোর দক্ষতার মানদণ্ডের কারণে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।
source: Azadir Dak