News
সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির উৎসাহ দেওয়া শুভ লক্ষণ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহিত করা শুভ লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানভিত্তিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করবেন—এমনটা নয়; বরং কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘শুধুমাত্র জিপিএ-৫ পাইলেই একটা জাতি উন্নত হয় না। কোয়ান্টিটি পাইলেই উন্নত হয় না। কোয়ালিটেটিভ চেঞ্জ দরকার।’’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় মানে কর্মসংস্থান বা চাকরিভিত্তিক শিক্ষা প্রদান নয়; এটি হবে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে মুক্তচিন্তার চর্চা চলবে।”
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহিত করা ঠিক নয়। উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়, কার কী ধরনের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধারায় দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়।
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, “দেশে পরিসংখ্যানগতভাবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার রয়েছে। অতীতের শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা গবেষক হবেন না। যারা শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হবেন, তাদের উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে। অন্যদিকে, যারা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে বেকার থাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষম জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে।” এ জন্য উদ্ভাবনী, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞাননির্ভর ও মেধানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়”। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কথা দিলে কথা রাখতেন এবং বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর আবাসিক সুবিধাসহ স্বতন্ত্র ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগের কথা তিনি জানতে পেরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধা ও অন্যান্য দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দাবিদাওয়া প্রাসঙ্গিক হলেও সেগুলোর নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন হওয়া উচিত নয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যথাসময়ে দাবিদাওয়া পূরণ করা হবে।”
দেশের উন্নয়নে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি জাতিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে হলে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। সমৃদ্ধ জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও গবেষণার চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা ডিগ্রির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।
source: The Dhaka Diary