News
শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জামায়াত আমিরের

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিদাওয়া নিয়ে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানীরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা এবং সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।’
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত ইসলামীর ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই লক্ষ্য করছি, গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন। ইতোমধ্যে এই আন্দোলনের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। দুই-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে একজন পোশাকশ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অতি দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “পাশাপাশি সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, এই শিল্প খাতটি হচ্ছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে এগিয়ে আসবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে শ্রমিকদের জন্য স্বল্প বেতনে আসলেই জীবন ধারণ করা অনেকটা অসম্ভব। তাদের দাবিকে বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই তাদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজন ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার এ পর্যন্ত এই পদক্ষেপটি নিতে পারেনি। সরকারকে আহ্বান জানাব, এটি ঠিক যে শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও ঠিক যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। এই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানীরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা এবং সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তাদের আহ্বান জানাব, আপনারা আপনাদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি। শিল্প বেঁচে থাকলে আপনারাও বেঁচে থাকবেন। মালিকপক্ষের প্রতি অনুরোধ করব, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়ে যাবে। আবারও সরকারকে আহ্বান জানাব, ক্ষয়ক্ষতি আর না বাড়িয়ে, অস্থিরতা তৈরির সুযোগ আর না দিয়ে অতি দ্রুত সরকার যেন তার কর্তব্য পালন করে।”
source: The Dhaka Diary