মাদরাসাছাত্র হত্যা: ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশ। তবে আপাতত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে চায় না তদন্ত সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির হোসেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। তিনি গণমাধ্যমে জানান, এ পর্যায়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দিন।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। একই সময় টেলিভিশনটির প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও নিয়ে যাওয়া হয়।
আটকের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন জানান, একটি খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসি কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
পরে বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। অন্যদিকে ডিবিসির বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ডিএমপির গোয়েন্দাপ্রধান শফিকুল ইসলাম।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রকাশক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাযিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফের চোখে গুলি লাগে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরিফের বাবা ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনকে আসামি করা হয়। ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ মামলার ৫৩ নম্বর আসামি।
এমআই/বার্তা বাজার
source: Barta Bazar