ইসরায়েলের ‘ভেতরের শত্রু’ ‘কিং মেকার’ হতে চলেছে আরবরা!

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে দেশটির রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও নিপীড়নের প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জন করে আসা ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা এবার রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিয়ে রাজনীতির মূল স্রোতে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন।
নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন পেলেও তা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও, ১২০ আসনের নেসেটে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন অর্জন করে ক্ষমতার ভারসাম্যের চাবিকাঠি বা ‘কিং মেকার’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
আরব দলগুলোর এই বিপুল সমর্থন যুক্ত হলে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭টিতে, যেখানে সরকার গঠনের জন্য ৬১ আসনের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য হওয়া ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব নাগরিকদের এই নীরব রাজনৈতিক বিপ্লব ইসরায়েলের কট্টর জায়নবাদী রাজনীতির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে।
গাজায় চলমান গণহত্যা, পশ্চিমতীরে নির্যাতন এবং খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আরবদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করায় এবার জীবন ও অস্তিত্বের তাগিদেই প্রায় ৮০ শতাংশ আরব ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন। মরুভূমির যাযাবর বেদুইন নারী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের আরব জনতা পরিবর্তনের আশায় দলে দলে ব্যালট পেপারে নিজেদের রায় দিয়েছেন।
তবে এই ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের পরও ইসরায়েলের রাজনীতিতে আদর্শিক জটিলতা কাটছে না। নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের অনেক কট্টর জায়নবাদী নেতা ও প্রধান মুখ গাদি আইসেনকট নির্বাচনে আরবদের সঙ্গে সরাসরি জোট না বাঁধার পক্ষে কথা বললেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে আরব দলগুলোর কৌশলগত সমর্থন বা বাইরে থেকে দেওয়া সহযোগিতা ছাড়া তাদের সামনে সরকার গঠনের কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
source: Azadir Dak