News

হেফাজত আমিরের মন্তব্যে ক্ষোভ আলেমদের

জামায়াতের সঙ্গে জোট করে গত নির্বাচনে দলটির পক্ষে ভোট চাওয়ায় মাওলানা মামুনুল হককে একহাত নিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এক ওয়াজ মাহফিলে সরাসরি নাম না নিয়ে মাওলানা মামুনুল হককে ইঙ্গিত করে ‘… বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আলেমদের মুখে এ ধরনের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা।

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর এ বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে হতবাক হয়ে পড়েন অনেক কওমি আলেম। এ ধরনের অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান কেউ কেউ।

কাউকে গালিগালাজ করার অধিকার হেফাজতের আমিরের নেই বলে মনে করেন গাজীপুর সালনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস যুবায়ের আহমাদ। তিনি বলেন, ‘আমিরে হেফাজত বরাবরই আমাদের শ্রদ্ধার। কিন্তু তিনি একবার গালি দিলেন। ধরে নিলাম সেটা আঞ্চলিকতার প্রভাব। ওমা, এখন দেখি আবার। তা-ও ‘… বাচ্চা’ বলে! সমালোচনা করার অধিকার তার আছে, গালিগালাজের না। এতে তার প্রতি গণআস্থায় ঘাটতি তৈরি হবে এবং কওমিপন্থিদের মাঝেও তাকে নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা যখন তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভিত নড়বড়ে করে দেবে।’

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত বলে জানান কওমি উদ্যোক্তার ফাউন্ডার মাওলানা রোকন রাইয়ান। তার মতে, এটা অসভ্যদের ভাষা। তিনি লেখেন, ‘তার নিকটজন যারা আছেন তাদের উচিত তাকে বুঝানো। ভুল সবারই হতে পারে, সেখান থেকে ফিরে আসাটাই উত্তম মানুষের কাজ। আর তিনি যে বয়সে গিয়ে পৌঁছেছেন, এখন তাকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া জরুরি।’

একজন বরেণ্য শায়খুল হাদিসকে এমন অপমান গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন রাজধানী উত্তরার বায়তুল মুমিন মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন। তিনি লেখেন, ‘শায়খুল হাদিসের মতো একজন বরেণ্য আলেমকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে, হাজার হাজার আলেম ও গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্য মঞ্চে এমন অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ করা হলো! পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনার নজির আছে কি না, আমার জানা নেই।’

কোনো কোনো কওমি মুরুব্বির কারণে কওমি মাদ্রাসা জাতির কাছে আস্থাহীন হয়ে পড়বে বলে শঙ্কা রাজধানী মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষক আবু নাঈম ফয়জুল্লাহর। তিনি লিখেছেন, ‘এখন কওমিদের মুরুব্বি পর্যায়ে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে তাতে জাতির কাছে এক আস্থাহীন, বিবেকহীন সম্প্রদায়ে পরিণত হচ্ছে এই অঙ্গন। এভাবে কওমি অঙ্গন যদি কওমের কাছেই আস্থাহীন হয়ে পড়ে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’

মাদরাসায়ে রাহমানিয়া আব্বাসিয়ার শিক্ষক জারির আহমদ হেফাজত আমিরের মতো মুরুব্বিদের থেকে আল্লাহ এই জাতি ও উম্মাহকে হেফাজত করার দোয়া চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, কিছু বলা যাবে না, মুখ খোলা যাবে না, কারণ তিনি আকাবির। তিনি যাকে ‘… বাচ্চা’ বললেন, তার বাবা ছিলেন এ দেশের অবিসংবাদিত শায়খুল হাদিস। ৬০ বছর বুখারি পড়িয়েছেন, বাংলা ভাষায় প্রথম বুখারির অনুবাদ করেছেন। কিছু বললেই বলবে বেয়াদব, কিছু বললেই বলবে আদবহীন। শুধু এতটুকু বলি এই ধরনের মুরুব্বি থেকে আল্লাহ এই জাতি ও উম্মাহকে হেফাজত করুন।’

ইসলামিক স্কুলের ফাউন্ডার ও প্রিন্সিপাল মুহিব ইমতিয়াজ হেফাজত আমিরের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘থেকে থেকে মোরা খুড়ো হয়ে যাই বুড়োদের সোহবতে।’

মাওলানা মাহমুদুল হক জালীস লিখেছেন, ‘যে নিজের জবান হেফাজত করতে পারে না। তার দায়িত্বে পড়েছে ইসলাম হেফাজতের ভার!’

মাওলানা আরাফাত নুর লিখেছেন, ‘আমাদের মুরুব্বি আকাবির যেহেতু গালি দিয়েছেন, তাহলে মনে হয় এটা সোওয়াব-ই হবে।’

source: Asia Post

Leave a Reply

Back to top button