News

বিএনপির র‍্যালি ঘিরে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির র‍্যালিকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঞায় ব্যাপক উত্তেজনা ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো দাগনভূঞা পৌর শহরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে থেকে বিএনপির উদ্যোগে এই র‍্যালিটি বের করা হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল।

উক্ত র‍্যালিতে সরাসরি নেতৃত্ব দেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই এবং দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ফেনী জেলা ও উপজেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষপর্যায়ের নেতাকর্মী এবং ছাত্রদল-যুবদলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‍্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে অগ্রসর হয়ে সরকারি আতাতুর্ক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট এলাকায় পৌঁছালে নিউ সুলতান মার্কেট ও জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে হঠাৎ করে একের পর এক বেশ কয়েকটি ককটেল ফাটানো হয়। আকস্মিক বিকট শব্দ ও চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল থমকে যায় এবং সাধারণ পথচারীরা আতঙ্কে দিগবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।

ককটেল আতঙ্কের মাঝেই র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, দাগনভূঞার মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়ায় নানা মত থাকতে পারে, তবে সব মান-অভিমান ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তবে সমাবেশ শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা কলেজ রোডের দিকে ফিরে যাওয়ার সময় আবারও একই কায়দায় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, র‍্যালির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো কর্মসূচি ঘিরে অন্তত অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ছিল—র‍্যালি চলাকালীন বিশেষ পোশাক, হেলমেট ও মাস্ক পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে হাতে লাঠি নিয়ে সম্পূর্ণ র‍্যালির নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেখা যায়। তবে লাঠি হাতে থাকা এসব ব্যক্তির কাঁধে কিংবা হাতে থাকা ব্যাগে কী ছিল এবং বিস্ফোরণের নেপথ্যে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান এ বিষয়ে জানান, বিএনপির দলীয় কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে শহরের মোড়ে মোড়ে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে এবং আগের বছরের আগস্টে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় সাংবাদিক ও পুলিশসহ বহু নেতাকর্মী আহত হন। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা জামশেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীদের মধ্যে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই থমথমে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button