চাকসু নির্বাচনের ৯ মাস: শিবিরের ৩৩ প্রতিশ্রুতির ৫১ শতাংশই এখনো অধরা

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ইশতেহারের ফুলঝুরি দিয়ে বিজয়ী হয়েছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। নির্বাচনে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই জয় পায় প্যানেলটি। তবে নির্বাচিত হওয়ার নয় মাস পরও তাদের ইশতেহারের বাস্তবায়ন চিত্র বলছে, প্রতিশ্রুতির বড় অংশ এখনো রয়ে গেছে কাগজেই। ৩৩ দফার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
জানা যায়, নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল শিবির সমর্থিত এ প্যানেলটি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এর মধ্যে মাত্র ১২ দফার বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে হয়েছে, যা মোট ইশতেহারের ৩৬ শতাংশ। এছাড়া ৪টি দফা আংশিক বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, যা মোট ইশতেহারের ১২ শতাংশ। এর বাইরে, ১৭টি প্রতিশ্রুতির এখনো কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি, যার পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ইশতেহারের ৫১ শতাংশে। অর্থাৎ- সম্পূর্ণ ও আংশিক বাস্তবায়ন মিলিয়ে চাকসুর ৩৩ দফার মধ্যে ১৬টি দফায় (৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ) অগ্রগতি হয়েছে। আর অর্ধেকের বেশি ১৭টি দফা (৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ) এখনো অপূর্ণ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী সাদিয়া সিদ্দিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “ওভারঅল কাজের ইশতেহার ধরে ধরে যদি আমরা চেক করি, দেখা যাবে যে, ওইটার ৩০ শতাংশ কাজও আমরা প্রোপারলি হতে দেখছি না। হ্যাঁ, কিছু কিছু কাজ হচ্ছে, তারাও (চাকসু নেতারা) কাজ করার ট্রাই করছে, অথবা অনেক জায়গায় প্রশাসনের হেল্পও হয়তোবা পাচ্ছে না বা পাচ্ছে, এরকম একটা সিচুয়েশন ক্রিয়েট হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু তারা স্টুডেন্টদের লিডার, স্টুডেন্টদের ভয়েস, প্রশাসন যদি কোনো জায়গায় হেল্প না করে তারা সরাসরি প্রশাসনকে একদম কোশ্চেন করবে বা তাদের মুখোমুখি দাঁড়াবে, এজন্যই কিন্তু তাদেরকে রিপ্রেজেন্টেটিভ বানানো হয়েছে। তারা বলে যে, আমাদেরকে প্রশাসন হেল্প করতেছে না, বা আমাদের বাজেটটা নাই। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, এই জিনিসটা আসলে প্রশাসন থেকেই আমরা এনাফ শুনেছি। আমরা এইগুলো শুনতে শুনতে বিরক্ত। তাদেরকে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে প্রশাসন এই ধরনের এক্সকিউজ না দেয় বা মিনিমাম যতটুকু বাজেট পাচ্ছে বা মিনিমাম যতটুকু কাজ আগাচ্ছে, সেটার যাতে স্বচ্ছতা থাকে। ওই স্বচ্ছতাটাও আমার কাছে মনে হয় যে, ক্লিয়ারলি আমরা পাচ্ছি না যে, আদতে এই বাজেটগুলো কোথায় যাচ্ছে বা কাজ কতটুকু আগাচ্ছে।”
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাঈম বিশ্বাস বলেন, “চাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট প্যানেল এমন একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছিল, যা বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণাপত্র বলেই বেশি মনে হয়েছে। ইশতেহারের ভাষা এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যেন নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, গবেষণা বাজেট, এমনকি জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। অথচ চাকসু কোনো নির্বাহী বা নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি উত্থাপন, সমস্যা তুলে ধরা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার একটি প্ল্যাটফর্ম মাত্র। এমন বাস্তবতা জেনেও যখন ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে, লক্ষ্য কি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা, নাকি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও আবেগকে পুঁজি করে নির্বাচনী সুবিধা অর্জন করা?”
তিনি আরও বলেন, “বাস্তবায়নের এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া বাস্তবভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে জনপ্রিয়তাকেন্দ্রিক নির্বাচনী কৌশল বলেই বেশি প্রতীয়মান হয়। ক্লাস, পড়াশোনা ও জীবনের সংগ্রামের ভিড়ে শত শত প্রতিশ্রুতির আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা যাচাই করার সুযোগ সবার থাকে না। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে এখতিয়ারবহির্ভূত ও কার্যত অসম্ভব প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী হাতিয়ার বানানো শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার সঙ্গে এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণার শামিল।”
এ বিষয়ে চাকসু মন্তব্য জানতে চাইলে চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক সমস্যা হচ্ছে যাতায়াত এবং আবাসন। আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা দুই থেকে আড়াইশো সিট বৃদ্ধির জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে সেগুলো বৃদ্ধি করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার আসনবিশিষ্ট ১০টি হল বৃদ্ধির জন্য আমরা চাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে কাজ করছি। এর বাজেট সরকার থেকে অনুমোদন বরাদ্দ দেয়, তখন আমরা হয়তো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ঘোষণা দেওয়ার মতো সময় চাকসুর মেয়াদকালীন সময়ে পাবনা, কিন্তু চাকসুর সময়েই আমরা কাজটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এর বাইরে আমাদের ইশতেহারের অনেকগুলো কাজই আমরা করেছি, করছি এবং এখনো অনেকগুলো কাজের প্রসেস চলছে। চবি মেডিকেলের যে ইশতেহার আমরা দিয়েছিলাম, এটা নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। আমরা আশা করি, আমাদের অনুজরা এটার ফল পাবে। আমাদের হাতে যে সময় আছে এ সময়ে বাকি ইশতেহারগুলো বাস্তবায়নের যথাযথ চেষ্টা করব।”
সাঈদ বিন হাবিব আরও বলেন, “আমাদের চাকসুর সময় এক বছর এক বছরে দৃশ্যমান বিল্ডিং তুলে ফেলা সম্ভব না হলেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কাজগুলো যেহেতু সরকারি, সেহেতু একটা প্রসেসিংয়ের ব্যাপার থাকে, তবে আমরা কাজ করছি, সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি যে, আমাদের সময়ের মধ্যেই একটা ঘোষণা দিয়ে যেতে পারবো। আমাদের প্রচেষ্টায় অনেকগুলো কাজ হয়েছে এবং মোটামুটি একটা পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ক্যাম্পাসে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক কোনো অস্থিরতা নেই এবং ক্যাম্পাসে প্রত্যেকটি হলে প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বণ্টন হচ্ছে। সিট পাওয়ার জন্য এখন কোনো নেতার কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে না। এই স্থিতিশীলতা চাকসুর অবদান এবং আমরা এ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।”
চাকসুর যেসব ইশতেহারের বাস্তবায়িত হয়েছে:
চাকসুর দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে হলগুলো থেকে মার্কশিট ও ফরম উত্তোলনে ২০ টাকা প্রদান করার নিয়মটি বাতিল হয়েছে। চাকসুর উদ্যোগে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু ও সহজ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ফ্রি মেডিকেল ও মেডিসিন ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স বৃদ্ধি, প্রতিটি হলে ফার্স্ট এইড বক্স স্থাপন এবং বেসরকারি মেডিকেল প্যাথলজিতে চবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থায় জোবাইক চালু এবং শাটল ট্রেনে নতুন বগি সংযোজন করা হয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তার জন্য ফ্রি লিগ্যাল এইড ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সাইবার বুলিং সেল গঠন করা হয়েছে। গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে মাসব্যাপী রিসার্চ ওয়ার্কশপ আয়োজন, মাস্টার্স (থিসিস), এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রণোদনার ব্যবস্থা এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, জার্মান, জাপানিজ ও ইংরেজি ভাষার স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স আয়োজন করা হয়েছে। এর বাইরে, লাইব্রেরিতে জেনারেটর স্থাপন, বই নিয়ে প্রবেশের অনুমতি, নারীদের হলে সেলাই মেশিন প্রদান ও প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং ঈদুল আজহায় ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।
যেসব প্রতিশ্রুতি আংশিক বাস্তবায়িত:
ইশতেহারে প্রশাসনিক অটোমেশন, অনলাইন সেবা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি ছিল। অনলাইন ব্যাংকিং চালু হলেও ফল প্রকাশ, রেজিস্ট্রেশন, রেজিস্ট্রার ভবনের জটিলতা দূরীকরণসহ পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স বৃদ্ধি ও ক্যাম্পের মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, অপারেশন থিয়েটার স্থাপন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ ও জরুরি মেডিকেল হেল্পলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। শাটল ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন বগি যুক্ত হলেও শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ, নতুন শাটল সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দ্বিতীয় রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো অধরা:
চাকসুর অন্যতম আলোচিত প্রতিশ্রুতি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি ও সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম নির্মাণ। নয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। সেশনজট নিরসনে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার কার্যকর করা, পরীক্ষা-রুটিন-ফল প্রকাশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণ, বিদ্যমান হলের সংস্কার, এক্সটেনশন ব্লক বৃদ্ধি, নতুন আসন সৃষ্টি এবং সিট বণ্টন ব্যবস্থার সংস্কারের মতো প্রতিশ্রুতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
শিক্ষার্থীদের জন্য অন-ক্যাম্পাস জব চালু, অফিসিয়াল ই-মেইল প্রদান, প্রিমিয়াম অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ, মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল গঠন, শহর ও উপজেলা পর্যায়ে বাস সার্ভিস চালু, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন ও বিভাগীয় লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন প্রোডাক্ট সহজলভ্য করা, ফ্যাকাল্টির মসজিদে নারীদের আলাদা স্থান, পৃথক ওয়াশরুম, ক্যান্টিনে পর্দা কর্নার, লেডিস ঝুপড়িতে সুপারশপ ও ফার্মেসি স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি।
এ ছাড়া অ্যালামনাইদের সঙ্গে সমন্বয়, হলভিত্তিক জিম, মাঠ সংস্কার, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাইল্ড কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার, কটেজ-মেস তদারকি, সুলভ মূল্যের খাবার নিশ্চিত করতে ফুড সেল গঠন এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মতো প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতেও নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি।
ইশতেহারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ফ্যাসিবাদের চিহ্ন ও দোসর-মুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল চাকসু। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার, শহীদ ফরহাদ হোসেন ও শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ অতীতের হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের তদন্ত ও বিচারের দাবিও ছিল তাদের ইশতেহারে। তবে এসব বিষয়ে নয় মাসে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ সালের ১৫ অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। এর ফলাফরের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও চাকসুর নেতৃত্বে ফিরে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা ভিপি-জিএসসহ ২৪টি পদে নির্বাচিত হন। এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হন একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদ বিন হাবিব। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
source: The Dhaka Diary

