মন্ত্রিত্ব ও মহাসচিবের পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করেছে।
আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ করা হবে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বিএনপি দলীয় ও শরিকদের মোট সংসদ সদস্য ২৪৯ জন। প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে নির্বাচিত ৬৮ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ১০জন এবং জামায়াতের নির্বাচনী জোট শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংরক্ষিত নারী আসনে ২জনসহ মোট ৮ জন সদস্য রয়েছেন। খেলাফত মজলিসের দুই অংশের মোট ৩ জন সদস্য রয়েছেন।
সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। দলের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগনাল পেয়ে বৃহস্পতিবার নিয়ম অনুযায়ী বিএনপির মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে এ আভাস পাওয়া গেছে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করণ হয়েছে কী না জানতে চাইলে জাতীয় সংসেদের চিফ হুইপ নরুল ইসলাম মনি ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সময় হলে আপনারা জানতে পারবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, দলীয় নির্দেশে দুটো মনোনয়ন ফরম ক্রয় করা হয়েছে। সেই ফরম খামে ভরে দায়িত্বপ্রাপ্তর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। ফরম পূরণের পর যখন তা নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে, তখন আমরা এবং আপনারাও জানতে পারবেন। মূলত, সাবধানতা থেকেই দুটো ফরম নেয়া হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুলের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই তাকে আগাম শুভেচ্ছা জানানোর চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ছিলেন সংযত। তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগে ঘোষণা হোক, তারপর।’ পরে বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ১৩ আগস্টের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং এখানে লুকোচুরির কিছু নেই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক এক সহকারী ডেইলি ক্যাম্পাসকে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আগামীকাল থেকে স্যারের (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) বাসভবনে নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল চালু হবে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্তে বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান
তিনি বলেন, এখন দলের মহাসচিব ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নেতাকর্মীরা ও স্যারের নিজের নির্বাচনী এলাকার (ঠাকুরগাঁও) থেকে প্রচুর মানুষ সরকারী বাসভবনে আসেন ওনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, বিভিন্ন তদবির নিয়ে। নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল চালু হলে বাসায় নেতাকর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যাবে।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বর্তমান স্থায়ী কমিটির প্রথম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি), নজরুল ইসলাম খান ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় ছিল।
তবে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে নানা নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দলীয় ঐক্য ঠিক রেখে দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার সফলতা এবং নেতাকর্মীদের আন্দোলন মুখি রাখার পুরস্কার হিসেবে দলের হাইকমান্ড রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলামকেই বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারণী ও নেতাকর্মীরা।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জল্পনা চলছিল। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা অনেকটা নিশ্চিত। গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী হিসেবে এক সময়ের বিএনপির নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নাম ঘোষণা করেছে।
source: The Daily Campus