যুব আন্দোলনের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, সিফাত বাহিনীর ১১ সদস্যকে গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সালেহনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, নিহত বুলবুল বন্দর থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বুলবুলের মালিকানাধীন রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে জানান তার বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২০ আগস্ট শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন বুলবুল। মামলা তুলে নিতে তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে ফের মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডার মধ্যে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: কুবির হলে ‘জেসিডি’ লেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব, জুনিয়রদের নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে বুলবুলের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোরে বন্দরের কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাতসহ সিফাত বাহিনীর নয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ইয়াসমিন ও জিসান নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ১১ জনের মধ্যে মাহফুজ, জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান, রিয়াদ, সিয়াম, ইরফান, মিনারা, নাসিমা বেগম ও রুমা বেগম রয়েছেন।
হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তারা অবস্থান নিলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে বেলা পৌনে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। জুমার নামাজের আগে বন্দর থানা ঘেরাও করেও বিক্ষোভ করেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি মো. নুর হোসেন বলেন, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।
এদিকে হত্যার পর বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ সিফাত বাহিনীর ৯ সদস্য এবং আরও দুজনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
source: The Daily Campus