ম্যাজিস্ট্রেটের সিল-স্বাক্ষর জাল করে এফিডেভিট, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত একটি এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালতের নাম ও ভুয়া সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে তৈরি ওই এফিডেভিট বৈধ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর সিআর-১৩৫/২৬।
মামলার আসামিরা হলেন পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের মানিকুল্ল্যার ছেলে সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত একটি এফিডেভিট করতে আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তিনি একই ব্যক্তির বিষয়ে একই ম্যাজিস্ট্রেটের নামে করা আরেকটি এফিডেভিটের ফটোকপি দেখতে পান।
পরবর্তী সময়ে ছেলে আসাদুজ্জামান বেঞ্চ সহকারীর কাছে সাকোয়াত হোসেনের ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ করা এফিডেভিটের মূল কপি দাখিল করেন। সেটি যাচাই করে দেখা যায়, এতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের নামে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সিল তার নয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই এফিডেভিটে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩, গাইবান্ধার সিলও ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।
অথচ তাদের সম্পাদিত এফিডেভিটটি গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখের সম্পাদিত এফিডেভিটে সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এতে ৬২৩/২৬ নম্বর স্মারক উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আদালতের প্রকৃত এফিডেভিট রেজিস্টার যাচাই করে দেখা যায়, ওই নম্বরের কোনো এন্ট্রি নেই। রেজিস্টারে সর্বশেষ ৫ মে তারিখে ৪৫০/২৬ নম্বর স্মারকের এন্ট্রি রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব তথ্য যাচাইয়ের পর এফিডেভিটটি জাল ও সৃজিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে এফিডেভিটটি তৈরি এবং পরে সেটিকে বৈধ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাল এফিডেভিটে ইংরেজি ভাষায় যে সিল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও ভুয়া। কারণ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর এফিডেভিটে ব্যবহৃত প্রকৃত সিল বাংলায়।
এ ঘটনায় সাকোয়াত হোসেন, আসাদুজ্জামানসহ অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এফিডেভিট করতে আসা বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে সদর আমলি আদালতে মামলা করা হয়েছে। আশা করি, পুলিশি তদন্তে জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং আইনানুগ বিচার হবে।’
source: The Daily Campus