News

সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় দুইজন নিহত, রেললাইন অবরোধ

সাতকানিয়ায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও এক প্রবাসীসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করলে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে থাকে। পরে থানা ও রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় অবরোধ প্রত্যাহার হলে বিকেল ৪টার দিকে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড়সংলগ্ন কাঠগড় রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুস শুক্কুর (৪৫) ও প্রবাসী আবু তাহের (৫৫)। আব্দুস শুক্কুর ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুহুরী পাড়ার মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে। আবু তাহের কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাইঙ্গা পাড়ার আহমদ হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় এক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু তাহের দোহাজারী থেকে বাজার করে বিওসির মোড় থেকে আব্দুস শুক্কুরের অটোরিকশাযোগে মাইঙ্গা পাড়ার নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে তারা কাঠগড় রেলক্রসিংয়ে পৌঁছালে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি পাশের খাদে পড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই আবু তাহেরের মৃত্যু হয়। অপরদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস শুক্কুরকে দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর বিক্ষুব্ধ জনতা রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন। এতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেই আটকে যায়। এতে ট্রেনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেনটি আটকে থাকায় অনেক যাত্রী সড়কপথে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে অধিকাংশ যাত্রী ট্রেনেই ছিলেন। পরে থানা ও রেলওয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে। একপর্যায়ে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মংইউ মারমা বলেন, ‘দুপুর ১টার পরপরই কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেসে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস সাতকানিয়া স্টেশন ত্যাগ করে। অবরোধের ফলে ট্রেনটি ২ ঘন্টা সেখানে আটকে ছিল। তবে বর্তমানে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।’

কক্সবাজার থেকে প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ২ ঘণ্টা এখানে আটকে আছি। একপ্রকার বাধ্য হয়ে সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য মালামাল নিয়ে রওনা হয়েছি। এই অবরোধের ফলে আমার মতো আরো অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

কালিয়াইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘কাঠগড় রেলক্রসিং এ গেটম্যান না থাকার ফলে এর আগেও দুর্ঘটনা হয়েছিল। সর্বশেষ আজকেও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই রেলক্রসিং এ গেটম্যান দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর রেললাইন অবরোধের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এরপর থানা ও রেলওয়ে পুলিশের প্রচেষ্টায় বিক্ষুদ্ধ জনতাকে শান্ত করে রেল লাইন থেকে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button