News
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস। রিটকারীদের দাবি, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের কমিটি গঠন করা এখতিয়ারবহির্ভূত।
রিটে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রিটকারীদের দাবি, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
‘যাচাইহীন’ ওই সংবাদের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত এবং পরবর্তীতে নেয়া সব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আবেদন করা হলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি। পরে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তারা।
রুলে, ওই সংবাদকে ভিত্তি করে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি এবং নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে আইনগত এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত ও নেওয়া হয়েছে—এগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না কেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হবে না কেন, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
ওই অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন। পুরো বিষয়টি মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা একটি সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেলিগ্রাম গ্রুপটির নাম ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। এতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই গ্রুপের ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট এশিয়া পোস্টের হাতে এসেছে। সেখানে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে অনেকের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গ্রুপটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিগ্রাম ও এর বাইরে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সদস্যরা নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।
source: The Dhaka Diary