যে সরকারের আমলে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, সে সরকার দরকার নেই: জামায়াত আমীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না সেই সরকারের দরকার নেই। যারা এটি পারবে তাদের হাতে দায়িত্ব যাবে। তিনি বলেন, বীমা করপোরেশন,শেয়ারবাজার মাটির সাথে হামাগুড়ি খাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দিনে দুপুরে বিভিন্ন রকম অপকর্ম খোদ রাজধানীতেই চলছে- যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। রাজধানীর অবস্থা থেকে বুঝা যায় সারা দেশের অবস্থা কী? যা খুবই উদ্বেগজনক।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত ৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকায় বিমান বন্দরে সীমাহীন দুর্নীতি,অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেদিন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামনাকে উত্যক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান কথা বলেছেন ভুক্তভোগী ও দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তরিঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পড়ানো হয়েছে। আমরার এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নয়, সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। আখতারুজ্জামান বলেছেন আমি প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে-তা দেশের ১৮ কোটি মানুষ জানুক।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী এ বিষয়টি হালকাভাবে নেবে না। প্রবাসীরাও হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি- পারেন না মুরোদ নাই, একটি মেডিকেল সেন্টার রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেয়া হলো, সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে আবডালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ জনগণের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য একজন সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু সেই দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেননি। আরও যারা দুষ্কৃতিকারী তাদেরও গ্রেফতার করা হয়নি। জনগণকে বোকা ভাববেন না, আড়াল করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কি করল? এখনো হামে ও ডেঙ্গুতে লোক মরে কেন? ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা আছে। কিন্তু আমাদের সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারিভাবে সে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দেন। এতে অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য উপকরণ হাতে পাবে। সরকার নিজেও আনবে না বাজারও খুলে দেবে না। আর যদি তারা আনেও, তাহলে ঘাটে ঘাটে কমিশন বসিয়ে জনগণের পয়সা চুরি করবে।
তিনি আরও বলেন, এ দুর্যোগে জামায়াত বসে থাকবে না, বসে থাকার সংগঠন নয়। দেশে যে দুর্যোগ এসেছে আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ নিয়ে নেমিছি। এক্ষেত্রে ডেঙ্গুকে আমরা মহামারি আকারে দেখছি। এজন্য আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা করেছি। আমরা জনগণকে সচেতন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করবো। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছি আমরা। তিনি খাল, নর্দমা যেখানে ডেঙ্গুর মশার চাষ হয় সেগুলো পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান শুরু করেছেন। দক্ষিণে সাদিক কায়েম আছে। গ্রাম পর্যন্ত আমাদের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের কাছে সরকারি বরাদ্দ নেই, আমরা নিজেদের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেয়া টাকা দিয়ে নেমেছি। সরকার জনগণের টাকার দায়িত্বশীল,জনগণের ট্যাক্সের টাকার পাহারাদার। সরকারকে নামতে হবে জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকে ঘুমাতে দেবো না, ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেবো। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে-এটি সরকারের কাজ। রাড্ডায় যেন মানুষের সেবা বন্ধ না হয় সেজন্য আমরা একটি অনুদান ঘোষণা করেছি। আমরা অপেক্ষায় আছি কখন কর্তৃপক্ষের গ্রিন সিগনাল পাবো। কিন্তু ধানাই পানাই শুরু করেছে সরকার, তারা নিজেরা করবে না আমাদেরও করতে দেবে না। এমনটা হলে আমরা জনগণকে জানিয়ে দেবো। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই লোক দেখানোর জন্য না। সেই কাজে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবো ইনশাআল্লাহ।
source: The Daily Campus