সাবেক এমপি শাহে আলম ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম ও তার স্ত্রী আতিয়া আলম মিলির বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্ত্রীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১২ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, এমন অভিযোগে মামলা করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক মো: আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদকের জানায়, আতিয়া আলম মিলি গত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ৫৬ লাখ ৮৮ হাজার ২২২ টাকার সম্পদের তথ্য দেখান। এর মধ্যে ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর এবং ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ২২২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তবে, সম্পদ বিবরণী যাচাই করে তার নামে মোট ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪২ টাকা। ফলে দাখিল করা বিবরণীর তুলনায় ১২ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে।
দুদক বলছে, আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী আতিয়া আলম মিলির নামে ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৫০ টাকা নীট আয় বা সঞ্চয় পাওয়া গেছে। তবে ওই আয়ের পক্ষে বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দুদকের অভিযোগ, স্বামী শাহে আলমের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে আতিয়া আলম মিলি এসব সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন।
এতে আতিয়া আলম মিলি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং তার স্বামী শাহে আলম দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় আতিয়া আলম মিলির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং শাহে আলমের বিরুদ্ধে একই আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, শাহে আলম বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন এবং ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭২ টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
source: Barta Bazar