News

রাড্ডা ক্লিনিক ও স্টুডিও ভাঙচুর করে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আড়াল করা হয়েছে: মীর শাহে আলম

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে সামনে এনে পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণ আড়াল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
 
তিনি বলেছেন, ‘এর উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী কী করেছেন, তা যেন জাতির সামনে না আসে।’
 
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 
 
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা আমাদের এই জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে এমন একটি নজির তৈরি হয়েছে। ইতিহাসে এমন একটি দেশ ও পরিবার পাবেন না, যে পরিবারের তিনজন ব্যক্তি জাতিসংঘে ভাষণ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন।”
 
আরও পড়ুন
 
তিনি বলেন, “মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, গণতন্ত্রের মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। আর তাদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত মানবিক প্রধানমন্ত্রী এবার জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করলেন।”
 
তিনি আরও বলেন, “জাতির দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং কন্টেন ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে সামনে নিয়ে এসে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেসবুক ভরিয়ে দেওয়া হলো। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, জাতিসংঘে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী করলেন, সেটি যাতে জাতির সামনে না আসে। এটি একটি ষড়যন্ত্র। কথাগুলো রাজনৈতিক হলেও মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করেন, তাদের এসব বিষয় বোঝা প্রয়োজন।”
 
সোলার প্যানেল স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য যেসব ভেন্ডর বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাপেক্স অথবা ওপেক্স মডেলে সোলার প্যানেল স্থাপন করা যাবে।”
 
তিনি বলেন, “আপনারা ক্যাপেক্সে করেন বা ওপেক্সে করেন, এই ব্যবস্থাকে টেকসই করার জন্য ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি করবেন। এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ যে ভেন্ডরদের তালিকা প্রকাশ করবে, সেই তালিকাভুক্ত ভেন্ডরদের মাধ্যমেই সোলার প্যানেল স্থাপন করবেন। এর বাইরে গেলে পরবর্তী সময়ে সার্ভিস পাবেন না। আর তালিকাভুক্ত ভেন্ডরদের মাধ্যমে কাজটি করালে দামের ক্ষেত্রেও একটি সামঞ্জস্য থাকবে।”
 
সোলার প্যানেল স্থাপনের ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “সিডব্লিউপির পক্ষ থেকে দেওয়া উপস্থাপনায় ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে চার লাখ টাকা খরচের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়ালটন ও আরএফএল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রীদের সামনে দেওয়া উপস্থাপনায় ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনে তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছিল।”
 
সরকারের সৌরবিদ্যুৎ কেনার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যার সময়সীমা ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। এ প্যাকেজের আওতায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে। এ সুবিধা ২০২৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর বিদ্যুতের প্রচলিত দর, অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ছয় থেকে সাত টাকা হারে ফিরে যাওয়া হবে।”
 
তিনি বলেন, “সরকার বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে মূলত দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার জন্য। এতে সরকারের আর্থিক ব্যয় বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এ ঘাটতির কারণে গ্রাম ও শহরে কমবেশি লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”ঃ
 
মীর শাহে আলম বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে অতিরিক্ত চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হলে বর্তমান চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান পূরণ করা যাবে। আল্লাহর রহমতে এ পরিকল্পনা সফল হলে ফেব্রুয়ারির পর থেকে লোডশেডিং থাকবে না।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button