২০২৯ সালে বন্ধ হতে পারে টুজি নেটওয়ার্ক, ঝুঁকিতে ছয় কোটি বাটন ফোন ব্যবহারকারী

দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারীকে ডেটা সেবার আওতায় আনতে আগামী দুই বছরের মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টুজি প্রযুক্তি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে চালু থাকা ছয় কোটির বেশি বাটন ফোন আর নেটওয়ার্কে সচল থাকবে না। এতে স্বল্প আয়ের গ্রাহক ও দেশীয় হ্যান্ডসেট শিল্প ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নির্মাতারা।
বর্তমানে দেশে টুজি, ফোরজি এবং সীমিত পরিসরে ফাইভজি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফোরজি ও ফাইভজি প্রযুক্তিতে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ডেটা সেবা পাওয়া যায়। অন্যদিকে, টুজি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল বাটন ফোনে মূলত কথা বলা ও খুদে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়। বর্তমানে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ছয় কোটির বেশি বাটন ফোন চালু রয়েছে, যার অধিকাংশ ব্যবহারকারী সীমিত আয়ের মানুষ।
বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন সভায় ধাপে ধাপে টুজি প্রযুক্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাটন ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এর আগে আগামী বছরের জুন থেকে এসব ফোনের বাজারজাত বন্ধ এবং ছয় মাসের মধ্যে বাটন ফোনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে বিটিআরসি।
তবে হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীরা বলছেন, টুজি প্রযুক্তি বন্ধের আগে গ্রাহকদের সামর্থ্য ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। যাঁরা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, তাদের বেশি দামের স্মার্টফোন ব্যবহারে বাধ্য করা হলে তারা মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যেতে পারেন। তাই পুরো ব্যবস্থাপনা স্পষ্ট না করে সিদ্ধান্তটি কার্যকর না করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।
তবে দেশীয় হ্যান্ডসেট নির্মাতাদের আশঙ্কা, বাটন ফোনের বাজার বন্ধ করে দিলে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নির্মাতাদের সংগঠন এমওবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে ১০ লাখের বেশি বাটন ফোনের চাহিদা রয়েছে। বৈধভাবে উৎপাদন ও আমদানি বন্ধ হলেও বাজারে চাহিদা থেকে গেলে অবৈধ পথে ফোন সরবরাহ বাড়তে পারে। এতে দেশীয় কারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মীদের ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসি বলছে, মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে উৎসাহিত করতেই টুজি প্রযুক্তি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে বিপুলসংখ্যক বাটন ফোন ব্যবহারকারীর জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় শিল্পের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
source: The Dhaka Diary