News

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২ জন নিয়োগের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে মুদ্রণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকি করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর এবার যাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে অবস্থান করছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারিতে। জব্দ করা হয়েছে তাদের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আশপাশের কক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন প্রণয়ন, মুদ্রণ ও নিরাপত্তার প্রতিটি ধাপে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে তদারকির উদ্যোগ নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপার কাজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাফেরা ও কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, গতকাল দিনভর প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করতে হচ্ছে। তাঁদের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস আগেই জব্দ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে সংশ্লিষ্ট কক্ষ থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে ছাপাখানায় মুদ্রণ এবং পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা—প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাবনা বন্ধ করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আশপাশের কক্ষগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানও এ নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজন

এর আগে গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পরপরই পরীক্ষা স্থগিত করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এ ঘটনার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠা এবং পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এই পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সরাসরি তদারকি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের আগের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button