রেল লাইন ধরে হাঁটছিলেন মা-মেয়ে, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে ট্রেনে কাটা পড়ে আকলিমা আক্তার পাখি (৩০) ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে রাফা মনির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের সামনের রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় শিশুটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার।
নিহত আকলিমা আক্তার পাখি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুকবাজীর গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে। তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম সৌদি আরবপ্রবাসী। আকলিমা মেয়েকে নিয়ে পলাশের ঘোড়াশালের ফুলদিরটেক গ্রামের ইছব আলীর ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকলিমা প্রায়ই বিকেলে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে তার শাশুড়ি আরজুদা বেগম কাপড় বিক্রি করতে বাইরে যান। এর কিছুক্ষণ পর আকলিমা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যার পরও মা-মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে রাত ৮টার দিকে বড় ছেলে আশিকুর রহমান ফোন করে জানান, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকলিমা মেয়েকে নিয়ে রেললাইনে হাঁটছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই আকলিমার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রাফা মনিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তারও মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে।
শুক্রবার সকালে নিহতদের স্বজনরা নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসেন। আকলিমার মা নাসিমা বেগম জানান, মা ও মেয়ের মরদেহ গাইবান্ধায় নিয়ে দাফন করা হবে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ফাঁড়িতে এসেছেন। শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সম্মতিতে মরদেহ দুটি হস্তান্তর করা হবে।
source: The Daily Campus