সাংবাদিক ও লেখক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও গীতিকবি এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৫ বছর বয়সে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৫৮ সালে কচি-কাঁচার আসরের আহ্বায়ক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন ফখরুদ্দীন। তিনি বর্তমানে বিলুপ্ত দৈনিক দ্য পাকিস্তান অবজারভার ও দ্য মর্নিং নিউজে অসংখ্য নিবন্ধ লিখেছেন। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনের দ্য ডেইলি মিররের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন।
সাংবাদিকতা জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নিয়ে প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জন পিলজারের সহযোগী প্রতিবেদকদের একজন হিসেবে কাজ করা। বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জন পিলজারের প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্যচিত্র An Unfashionable Tragedy ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সম্প্রচারিত হয়। ওই তথ্যচিত্রে এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের বক্তব্যের দৃশ্যও ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্যচিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরবর্তীকালে জন পিলজার তার বিখ্যাত Heroes গ্রন্থে ফখরুদ্দীনকে নিয়ে প্রায় তিন পৃষ্ঠা লিখেছেন এবং তার একটি ছবিও সংযুক্ত করেছেন। বইটিতে সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে লন্ডনের জনাথন কেপ এবং ১৯৮৯ সালে প্যান বুকস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।
স্নাতক শেষ আগেই ফখরুদ্দীনের বাংলা অনুবাদ শেক্সপিয়রের ‘সনেট’ প্রকাশিত হয়। তার লেখা দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা, তোর আকুল করা রূপের সুধায় হৃদয় আমার যায় জুড়িয়ে’ ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা হয়। গানটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাপ্তাহিক হলিডের সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তার আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
source: Asia Post