আইসিটি বইয়ে কেনো দাঁড়িপাল্লা প্রতীক, যা বলল এনসিটিবি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতীকের মতো দেখতে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ব্যবহার নিয়ে সৃষ্টি হওয়া দেশব্যাপী তীব্র বিতর্কের মুখে এবার অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনসিটিবির আইসিটি বিষয় বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের। তাঁর দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়নি, বরং গুগলে সার্চ করে প্রজ্ঞার আইকন হিসেবে দাঁড়িপাল্লা দেখে গ্রাফিক্স আর্টিস্টরা ছবি একেছেন এবং তিনি কেবল তা বইয়ে যুক্ত করেছেন।
এনসিটিবির এই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালেও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে এক শিক্ষকের পরামর্শে তা পরিবর্তন করে মস্তিষ্কের ছবি আনা হলেও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ফের দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরিয়ে আনা হয়। বিষয়টির সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “উইজডম মানে ভালো-খারাপ জাস্টিফাই করার ক্ষমতা। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হার্ভার্ডের ল ডিপার্টমেন্টেও জাস্টিস হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো পলিটিক্যাল লেন্স থেকে করা হয়নি।”
তবে এই আইসিটি কর্মকর্তার চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন স্বীকারোক্তিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনো প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ের সংবেদনশীল চিত্র গুগলে পাওয়া সাধারণ ছবি দেখে সরাসরি ঢুকিয়ে দেওয়া এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা যাচাই না করে বইয়ে প্রিন্ট করতে পাঠানোর বিষয়টি এনসিটিবির সম্পাদনা ও তদারকি ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত এই কর্মকর্তা ৩৫ ব্যাচের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন নবীন কর্মকর্তা। ২০২৪ সালে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর মাত্র এক মাসের কলেজ অভিজ্ঞতার পরই রহস্যজনকভাবে তাকে সরাসরি এনসিটিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এত বড় ও জাতীয় স্পর্শকাতর কাজের দায়িত্ব একজন আনাড়ি ও নবীন কর্মকর্তাকে দেওয়াই ছিল কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ভুল।
এর আগে বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আইসিটি বইটির প্রসেস ও ছাপার কাজ জরুরি ভিত্তিতে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা লাখ লাখ বই মাঠপর্যায় থেকে গুটিয়ে এনে প্রজ্ঞার সেই বিতর্কিত প্রতীক পরিবর্তন করে পুনরায় ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।
source: Azadir Dak