News

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর ভাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবকে কুমিল্লায় বদলি

অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের ভাই অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদ থেকে সরিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার, শিক্ষক বদলি ও পদায়নে অনিয়ম এবং পাঠ্যবইয়ে বিতর্কিত পরিবর্তনের নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
 
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলির কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
 
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ওএসডি হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকায় সংযুক্ত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিজ পিডিএসে লগইন করে অবমুক্তি ও যোগদানপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পাঠ্যবইয়ে জুলাই শহীদ আনাসকে কেন্দ্র করে লেখা একটি গল্পে বিতর্কিত পরিবর্তন এবং জুলাই আন্দোলন ও বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার ঘটনায় কামাল উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে ক্ষোভ তৈরি হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে বদলির আদেশে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার শিক্ষা প্রশাসনে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৯ সালে তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বোন অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপসচিব পদে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে ফাহিমা খাতুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হলে কামাল হায়দারকে অধিদপ্তরের সরকারি কলেজ শাখায় পদায়ন করা হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই সময় তিনি ফাহিমা খাতুনের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বলয়ের সদস্য হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আলোচিত সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মন্মথ রঞ্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবেও তিনি প্রভাব বিস্তার করেন।’
 
মাউশির কলেজ শাখায় দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষকদের বদলি ও পদায়নে অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিএনপি ও বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি অসহযোগিতামূলক আচরণ করতেন বলে শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আমলেও নানা বিতর্কের কারণে তাকে মাউশি থেকে সরিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে বদলি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কামাল উদ্দিনের কয়েকটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
 
শিক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কামাল হায়দার নিজেকে সাবেক ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং এরপর সচিব পদে দায়িত্ব পান। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
 
চলতি বছরের মে মাসে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। এর আগে তিনি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বোর্ডের সচিব পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।
 
এদিকে, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আর দুই দিন বাকি থাকতে তার বদলির আদেশ এলো।
 
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button