News

নেতানিয়াহুর জোট বড় পরাজয়ের মুখে, দাবি সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী জোটের অংশীদার ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়ার লাপিদ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রাথমিক বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইয়ার লাপিদ বলেন, ‘কেউ যেন আপনাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে। নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে।’

লাপিদ আরও বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়। জনগণ তাদের চলে যেতে এবং ঘরে ফিরে যেতে বলেছে।’

এদিকে ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির নেতা বেনি গান্তজ বলেছেন, ইসরায়েলের জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে সেই পরিবর্তন যেন সঠিক পথে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক এই সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন।

গান্তজ ইহুদিবাদী ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রতি রাজনৈতিক জোটের বিভাজন পেরিয়ে একটি ‘ইহুদিবাদী ঐক্য সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নতুন করে নির্বাচন এড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান গান্তজ। জনমত জরিপে তার দলের সংসদে প্রবেশের ন্যূনতম আসনসংখ্যা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

যদিও ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিনের মতে, প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের অবস্থান দুর্বল হওয়ার চিত্র উঠে এলেও তাকে সরিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।

আল-জাজিরাকে জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের পার্লামেন্টে একক দল হিসেবে লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারে। দলটি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক জরিপে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে পাওয়া ৩২টি আসনের তুলনায় এবার তাদের আসন কমতে পারে।

জাবারিন বলেন, ‘এতে একই সঙ্গে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়। ৭ অক্টোবরের হামলা ও তিন বছরের যুদ্ধের পরও নেতানিয়াহুর প্রতি অনুগত সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু শুধু এই সমর্থন দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।’

তবে নেতানিয়াহুর জয় হয়েছে কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাবারিনের মত, প্রাথমিক জরিপে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বলে ইঙ্গিত মিললেও বিরোধীদের পক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করা কঠিন হতে পারে। কোনো পক্ষই সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button