পাকিস্তানে মানবাধিকারকর্মী দম্পতিকে ১০ বছরের জেল

পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলী চাথাকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের একটি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তাঁদের পরিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
আদালতের বিচারক আদিয়ালা কারাগারে এ রায় ঘোষণা করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে থেকে ওই কারাগারেই বন্দি রয়েছেন এই দম্পতি।
সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের ওপর হামলার পৃথক অভিযোগে আদালত দম্পতিকে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে এসব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক কর্মীদের গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ইমান মাজারি এবং তাঁর স্বামী চাথার কারাবাসের ঘটনায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাঁদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এসব সংগঠন তাঁদের কারাবন্দি রাখার নিন্দা জানিয়েছে।
২০২৪ সালের একটি মামলায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা বিক্ষোভের আয়োজন করে একটি সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
রয়টার্সের হাতে আসা বিবৃতিতে তাঁরা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, ‘আমরা বিবেকের কারণে বন্দি।’ মানবাধিকার নিয়ে তাঁদের কাজের কারণেই তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বারবার বলেছেন, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীন।
ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইমানের মা শিরিন মাজারি রয়টার্সকে বলেন, ইমান ও চাথাকে ‘নিজেদের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিপত্রও সরবরাহ করা হয়নি।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে সরকারি কৌঁসুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
রাষ্ট্রবিরোধী বলে অভিযোগ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টসংক্রান্ত পৃথক একটি মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর থেকে ইমান মাজারি ও চাথা কারাগারে রয়েছেন।
ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনের (প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট) অধীনে পরদিন একটি দায়রা আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন। একই দিন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মামলায় পুলিশ তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার করে।
ইমানের মা বলেন, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করব।’
তথ্যসূত্র: রয়াটার্স
source: Barta Bazar