News

সন্দেহভাজন আরো তিনজন তদন্তের আওতায়

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে আরো তিনজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারা দীপ, দিশা ও তাহসিফ সাউরির ঘনিষ্ঠ ছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা তাদের নাম জানতে পেরেছেন।

তদন্ত সংস্থা নৌপুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জেরিকা তাসনিম দিশার বক্তব্য। রিমান্ডে থাকা দীপ ও দিশাকে গতকাল সোমবার মুখোমুখি ও আলাদাভাবে জেরা করা হয়েছে। সেখানে তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, তাদের জেরায় আরো অন্তত তিনজনের নাম এসেছে। এর মধ্যে এক দম্পতি ও আরেকজন নারীর নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তকারীরা ওইসব নাম প্রকাশ করেননি।

নিখোঁজ হওয়ার রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশা। সিসিটিভি ফুটেজে তিনজনের একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য মিললেও এরপর তাদের গতিপথ গিয়ে ঠেকেছে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে মারা গেলেন তাহসিফ—তা এখনো পরিষ্কার নয় তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে।

এদিকে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বলেছেন, দিশা শুরু থেকেই তাদের কাছে সন্দেহজনক ছিল। সে বারবার তাদের বাসায় যেত। তাহসিফ তার বোনের কাছেও দিশার বিষয়ে সন্দেহ করছিল। মেয়েটি বারবার তাকে বিরক্ত করত। তার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। সে তাহসিফের কোনো বান্ধবী বা গার্লফ্রেন্ড নয়।

এদিকে দিশার স্বজনরা জানান, গত ২৮ মে তাহসিফ ও দিশার মধ্যে পরিচয় হয়। এরপর তাহসিফ প্রেমের প্রস্তাব দেন দিশাকে। এতে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। মাসখানেক আগে যখন তাহসিফ কালসি ফ্লাইওভারের ওপরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েন, তখন দিশা তাহসিফের সঙ্গেই ছিল। পরে তাহসিফ দিশাকে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। এর পরদিন দিশার পরিবার তাকে নিয়ে আসে। পরিচয়ের পর থেকে তাহসিফ বেশ কয়েকবার দিশাকে তাদের বাসায় ডেকে নিয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ উত্তরার বার থেকে বের হয়ে দিশাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যান। সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস এবং একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। পরে রাত সাড়ে ১২টায় দিশাকে বাসায় পৌঁছে দেন তাহসিফ ।

এর আগে রাত ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দিশাকে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। পরে পৃথক মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ। রাত ১১টা ৫১ মিনিটের দিকে তারা সেখান থেকে বের হন। প্রায় দেড় ঘণ্টা বারে অবস্থান করেছিলেন তারা।

গত মঙ্গলবার উত্তরার রাজউক কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন বিকালে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button