Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

জামায়াতের সমাবেশে বিপুল নারীর উপস্থিতি, কী প্রতিশ্রুতি দিলেন দলের আমির

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার বাসিন্দা আলিয়া বেগম। সেখান থেকে এসেছেন জেলা সদরের শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে, অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী সভায়। এ সমাবেশে নারীদের জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার নারী কর্মী উপস্থিত।

কেউ কেউ সঙ্গে এনেছেন নিজেদের ছোট বাচ্চা, আবার কেউ নাতি-নাতনি। দেখা যায় ক্লান্তির ছাপও, কারণে সমাবেশে অংশ নিতে অনেক আগেই রওনা হয়েছেন বাড়ি থেকে। তীব্র রোদের মধ্যে স্টেডিয়ামে বসে আছেন দলটির আমির ডা শফিকুর রহমানের বক্তব্য শুনতে। আলেয়া বেগম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলে, ‘হাসিনা সরকার তখন ছিল, আমাদের জেলে ভরেছিলে। দুই মাস ১০ দিন আমরা জেল খেটেছি।’

নিজের গ্রেপ্তারের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আলিয়া বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সুরা ইয়াসিন মুখস্থ করতাম। আমরা গ্রামের একটি বাড়িতে বসে নিয়মিত পড়তাম। ২০১৯ সালে হঠাৎ একদিন এমন কোরআন মুখস্থ করার সময় ২৬ জনকে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়। পরে দুই মাস ১০ দিন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয় আমাদের। এখন আমরা জামায়াত করি।’

আলিয়ার মতো আরেক নারী কর্মী কুলসুম আক্তার। ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে এ সমাবেশে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই নারী। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘অন্য দল কর্মীদের টাকা দিলেও আমরা কখনো টাকা পাই না। বরং আমাদের থেকে টাকা নিয়েই সংগঠন চলে।’

আলেয়ার মতে, অনেক দলের ভেতরে মেয়েদের সম্মান, নিরাপত্তা, পর্দা ঠিকমতো নেই, কিন্তু এগুলো জামায়াতে আছে। আমরা কিন্তু আগে এরকম ছিলাম না। তারাই (জামায়াতের দায়িত্বশীলরা) আমাদেরকে শিখিয়েছে যে, কীভাবে মেয়েদের সম্মান বাড়বে, কীভাবে চলতে হবে।

জামায়াতের কয়েক ডজন নারী কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তাদের মতে, দেশে আদর্শবান মানুষ তৈরি, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জামায়াতের বিকল্প কোনো দল নেই। তাই এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করতে তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।

নিজের সঙ্গে নাতিকে এনেছেন ফুলি বানু। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘ইসলামকে আমরা প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা যেভাবেই হোক, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে ইসলামের পক্ষে থাকে, এজন্য আমরা নাতি-ছেলে নিয়ে এসেছি।’

দুই বছরের ছোট সন্তান নিয়ে শহীদ আবরার স্টেডিয়ামে এসেছেন তাজনিন সুলতানা। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম ভোট দাঁড়িপাল্লায় দেব। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে এসেছি। ওর বাবাও পাল্লায় ভোট দেবে বলেছে। আমরা চাই জামায়াত ক্ষমতায় আসুক। তাহলে দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সবাই শান্তিতে থাকতে পারো।’

এদিন বেলা ১২টার কিছু আগে সমাবেশের মঞ্চে ওঠেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তীব্র রোদের মধ্যে বসে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার আগমনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান ধরেন। এ সময় হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর গুগল সার্চে এগিয়ে কোন দল?

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নারীদের জন্য তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নারীদের জন্য বড় শহরে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই যাত্রাপথে অনেক জায়গায় নারীদের নামাজের সুযোগ নেই, নারীদের জন্য যাত্রাপথে সেই ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মায়েদের জন্য কর্মস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার নির্মাণ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে বেশি নারী কর্মী কাজ করেন, সেগুলোতে বেবি কেয়ার গঠন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দোয়া করি এই দেশে শহীদ আবরার ফাহাদ, ওসমান হাদি, আবু সাঈদের মতো যোদ্ধাদের তৈরি করে দিন।’ অনেকে নারীদের হেনস্তা করছে কোথাও কোথাও গায়ে হাত তুলেছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদেরকে আমরা বলি, তোমরাও মায়েদের গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তান। তাদের সম্মান করো।’

তিনি বলেন, চব্বিশের দূর্গ প্রমাণ করে দিয়েছে আল্লাহ ছাড়া তারা কাউকে পরোয়া করে না। তারা ফাহাদকে বিদায় করেছে, হাদিকে বিদায় করেছে, কিন্তু সব বিপ্লবীরা হাজারো বিপ্লবী তৈরি করে দিয়েছেন।জামায়াত আমির বলেন, ‘কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজনকে আমরা এখনো খুঁজে পাইনি’। এ সময় আহত গুম ও খুনের শিকার নেতাকর্মীদের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা শফিকুর রহমান।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Back to top button