News

১৪ বছর ধরে গুম হওয়া ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

১৪ বছর ধরে গুমের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের গুমের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ‘আমার ভাই গুম হয়, প্রশাসন কী করে’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘আওয়ামী লীগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘অলি ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

সমাবেশে ছাত্রশিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’র তদন্ত কার্যক্রমের স্থবিরতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

সমাবেশে কুষ্টিয়া জেলা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান বলেন, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রশিবির কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে শিবিরের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীকে গুম করা হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও বিগত সরকার বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হতে চায়, তাহলে তার পরিণতি হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি তদন্ত কমিটির তৎপরতা দেখতে না পাই, তাহলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে চাই। সমাবেশ শেষে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো জানাব।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতা ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাস ঢাকার সাভার থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ১৪ বছরেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের সন্ধান ও ঘটনার তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছে পরিবার ও ছাত্রশিবির। এর আগে আন্দোলনের মুখে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে পরে বিভিন্ন অসহযোগিতার অভিযোগে গঠিত কমিটিটি স্থবির হয়ে যায়।

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button